কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে নানা নাটকীয়কতার পর ফলাফল না জানিয়ে বেরিয়ে গেলেন নির্বাচনে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
তবে তার আগে দুপুর ১২টা বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহনের কথা থাকলে ও এক ঘন্টায় ২০এর অধিক ভোট গ্রহনের পর নির্বাচনের পক্ষে বিপক্ষে অট্টগোল শুরু হলে ভোটগ্রহন রুমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় আদালত প্রাঙ্গনে বিপুল পরিমান পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪.৪০মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকা এসব নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা গোপনে একজন সিনিয়র আইনজীবিকে ব্যালট পেপারের ফাইল জানালা দিয়ে তুলে দিয়ে পরে রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। গতকাল সোমবার (২০এপ্রিল)বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন করার লক্ষে ২০ জানুয়ারি ৫ সদস্য বিশ্ষ্টি এডহক কমিটি গঠন করেন। পরবর্তীতেরা নির্বাচন কমিশনা গঠন করলে তাতে জাতীয় নির্বাচনের জন্য সকল পেশাজীবির নির্বাচন স্থগিত হলে বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনও স্থগিত হয়। এদিকে ঘোষিত তফমীল অনুসারে ১৫ এপ্রিল ফরম সংগ্রহ ও জমা দানের দিনে সভাপতি পদে এডভোকেট আবু নাছের এবং এডভোকেট এ.আর.এম তাকছিমুল গনি ইমন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে। অভিযোগ রয়েছে ফরম জমাদানের দিনে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী এডভোকেট এ.আর.এম তাকছিমুল গনি ইমনের আতœপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ না দিয়ে তাতে এডভোকেট আবু নাছের কে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় সভাপতি ঘোষনা করলে তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। কমিশনের একপক্ষ নির্বাচনের পক্ষে এক পক্ষ স্থগিতের পক্ষে। সেটা রোধে এডহক কমিটির সদস্যরা ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় বসে নির্বাচন করার উদ্যোগ নেন। তারই প্রেক্ষিতে সোমবার (২০এপ্রিল) বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শুরু হলে পক্ষে বিপক্ষে হট্টগোল শুরু করে আইনজীবিরা। ফলে দুপুর ১২টা বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহনের কথা থাকলে ও এক ঘন্টায় ২০এর অধিক ভোট গ্রহনের পর নির্বাচনের ভোটগ্রহন কর্মকর্তারা রুমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় আদালত প্রাঙ্গনে বিপুল পরিমান পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও দুপুর ১টাথেকে বিকাল ৪.৪০মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকা এসব নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা গোপনে একজন সিনিয়র আইনজীবিকে ব্যালট পেপারের ফাইল জানালা দিয়ে তুলে দিয়ে পরে রুম থেকে বেরিয়ে আসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীল, নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট মো: সাইফুদ্দিন ও এডভোকেট মো: জসিম উদ্দিন। আইনজীবিদের দু,গ্রপের অট্টগোলের মধ্যে বিপুল সংখ্যক পুলিশ থাকলেও তারা আইনজীবিদের বিরোধে নিজেরা দুরত্বে অবস্থান নেন।
বিকাল ৫টার দিকে আদালতের মাঠে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী এডভোকেট এ.আর.এম তাকছিমুল গনি ইমন উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এখানে কোন নির্বাচন হয়নি। মব সৃষ্টি করে যে রায় নিজের পক্ষে নিতে চাচ্ছে তা আইনগত ভিত্তি নেই্। এ নির্বাচন আমি সহ অন্য পদে প্রতিদ্বন্দিতাকারি অপর কোন প্রার্থী এতে মানে না বলে জানান। অপরদিকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতাকারি এডভোকেট আবু নাছের বলেন, নির্বাচনে যে ভোটগ্রহন হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে যে রায় দেয়।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীল, নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট মো: সাইফুদ্দিন ও এডভোকেট মো: জসিম উদ্দিন এর পক্ষে থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে জানানো বলে তারা বেরিয়ে পড়েন। এদিকে এ নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের সমর্থকেরা প্রধান সড়কে বিবাদে জড়িয়ে পড়লে থানা পুলিশ এসে সরিয়ে দেয়।