ইফতেখার আলম বিশাল : নানা জল্পনা-কল্পনা ও দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর এ নির্বাচনকে ঘিরে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে নগরীর ব্যবসায়ী মহলে।
মূলত ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৩ জানুয়ারি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করে। ফলে থেমে যায় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনী উত্তাপ। পরবর্তীতে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে অবশেষে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৮৯৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দুটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৪৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পরিচালক পদের জন্য লড়ছেন ৩৭ জন প্রার্থী। সভাপতি পদে দুই প্যানেল থেকে একজন করে এবং একজন স্বতন্ত্রসহ মোট তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে দুজন করে মোট চারজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
২০১২ সালের পর টানা ছয়টি কমিটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় চেম্বারের কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক ব্যবসায়ী। তাদের প্রত্যাশা, এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব আসবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরে আসবে।
চেম্বার সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে অতীতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বাস্তবায়নের আলো দেখেনি। মাছ রপ্তানির জন্য স্থানীয়ভাবে পরীক্ষাগার স্থাপন, আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা কিংবা ভারতের সঙ্গে নৌপথে বাণিজ্য সম্প্রসারণ—এসব উদ্যোগ এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
এছাড়া রাজশাহীর বিসিক শিল্পনগরীর দুরবস্থা, ভারী শিল্পের অভাব এবং কর্মসংস্থানের সংকট ব্যবসায়ী মহলে দীর্ঘদিনের হতাশার কারণ হয়ে আছে। অনেকের অভিযোগ, পূর্ববর্তী নেতৃত্বগুলো ব্যবসায়ীদের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে একই সঙ্গে রয়েছে শঙ্কাও—নতুন নেতৃত্ব কি সত্যিই পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি আগের মতোই স্থবিরতায় আটকে থাকবে রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্য? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো ব্যবসায়ী সমাজ।