ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ চকলেট দেবার কথা বলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চৌব্বাস এলাকায় ৪ বছরের শিশু সন্তান কে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ শিশুটি চৌব্বাস গ্রামের দঃ পাড়া বাসারের বাড়ির শাহিন এর মেয়ে৷ থানায় লিখিত অভিযোগ ও শাহিনের স্ত্রী জানান- আমার স্বামী প্রবাসে থাকে, আমার মেয়ের বয়স (৪) বছর৷
গত বুধবার ৮ এপ্রিল বিকালে, আমাদের বাড়ির উঠানে খেলা করছিল আমার মেয়ে নাফিসা (৪)৷ তখন আমি গোসল করতে যাই৷ ২০ মিনিট পরে গোসল সেরে এসে নাফিসাকে খোজে পাচ্ছিলাম না৷ আমার শ্বাশুড়িসহ আমরা বাড়িতে খোজাখুজি করতে থাকি৷ কতক্ষণ পরে একটা বাচ্চা বলে নাফিসাকে জুনায়েদ, আর রিফাত চকলেট দেবার কথা বলে বাড়ির পূর্বপাশে জমিতে নিয়ে গেছে৷ আমাদের বাড়ির আলমগীর হোসেন এর ছেলে মোঃ জুনায়েদ (১৩), একই বাড়ির ইমনের ভাগিনা রিফাত (১২)৷ আমি এবং আমার শ্বাশুড়ি নাফিসাকে ডাকা ডাকি করতে করতে বাড়ি পূর্ব পাশের ধান ক্ষেত এবং
ডোবার পাশে গেলে জুনায়েদ এবং রিফাত নাফিসাকে পানিতে ফেলে দৌড়ে চলে যায়৷ এসময় আরো অঙ্গাতনামা ৪ -৫ জন লোকদৌড়ে পারিয়ে যায়৷ আমরা গিয়ে দেখি নাফিসার শরীরে রক্তের দাগ৷ তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আগাতের চিহ্ন, পেন্টখোলা এবং শরীরে রক্ত দেখা গেছে৷ তারা আমার মেয়ের গোপানাঙ্গে কামড়সহ ধর্ষন এবং হত্যা চেষ্টা করে৷ তখন আমরা নাফিসাকে উদ্বার করে ব্রাহ্মণপাড়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসি৷ সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে৷ প্রায় ৬ দিন চিকিৎসা শেষে গত সোমবার মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে আসছি৷ আমরা এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় ধর্ষন এবং হত্যা চেস্টার মামলা করেছি৷
থানায় বিষয়টি লিখিত অভিযোগ করার কারনে আমাদের বাড়ি কিছু লোক বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাংচুর করেছে৷ হামলা কারিরা মধ্যে ৪-৫ জন ছিল যারা, নাফিসাকে ফেলে দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছিল৷ আমার শিশু বাচ্চার সাথে এ অমানবিক নির্যাতনের সঠিক বিচার চাই৷ তাদের কে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি৷ এ বিষয়ে জানতে জুনায়েদ এবং রিফাতের বাড়িতে গেলে তাদের কে এবং তাদের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি৷ তাদের বসত ঘরে তালা লাগিয়ে কোথায় গেছে আশপাশের লোকজন তাদের কোন খবর দিতে পারে নাই৷
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফারুক হোসেন জানান - ঘটনায় জরিতদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে৷ নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে৷