ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে এক হিন্দু নারীকে বিয়ে করায় মো. সজল আলী ওরফে সজল সরদারকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন তাঁর বাবা মো. আজগর আলী সরদার। রোববার পাবনা জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন। সজল আলী ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী চাঁদার মোড় গ্রামের আজগর আলীর একমাত্র সন্তান।
হলফনামা থেকে জানা গেছে, ৯ ফেব্রুয়ারি পাবনা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে সজল আলী ঈশ্বরদীর সাহাপুর এলাকার আরতি রাণীকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের আগে ১ ফেব্রুয়ারি একই কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। ধর্ম পরিবর্তনের পর তিনি নিজের নাম রাখেন ‘সজল সরকার’।
ছেলের এই সিদ্ধান্তের কারণে আজগর আলী তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করেন, তিনি সুস্থ মস্তিষ্কে ও স্বেচ্ছায় নিজের সন্তানকে ত্যাজ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সজল এখন থেকে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর বা জমিজমার কোনো অংশীদার হতে পারবেন না। এমনকি আজগর আলীর মৃত্যুর পরও সজল তাঁর সন্তান হিসেবে সম্পত্তির কোনো ভাগ দাবি করতে পারবেন না এবং আইনিভাবেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একমাত্র সন্তানের এমন আচরণে কষ্ট পেয়ে ও ক্ষুব্ধ হয়েই আজগর আলী
সরদার এই কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে সজল সরকার বলেন, ‘আমি প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ভালো-মন্দ বোঝার অধিকার আমার আছে। আরতিকে ভালোবেসেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করেছি। বাবা আমাকে ত্যাজ্য করেছেন বলে শুনেছি।
এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে শান্তিতে সংসার করতে চাই।’পাবনা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস রায় বলেন, আইনত ধর্ম পরিবর্তন করা সজলের ব্যক্তিগত অধিকার। কিন্তু ধর্ম পরিবর্তনের ফলে তিনি তাঁর বাবার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার বঞ্চিত হওয়ার প্রবল আইনি ঝুঁকিতে পড়েছেন। অপরদিকে, বাবা তাঁর সন্তানকে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করে মূলত সম্পত্তি থেকে তাঁকে দূরে রাখার প্রাথমিক আইনি ধাপ সম্পন্ন করেছেন।