এন এ মুরাদ, মুরাদনগর : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কড়ই বাড়ী থেকে হায়দ্রাবাদ ইয়াকুব আলী ভূইয়া সড়কের প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ এখন জনসাধারণের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিজটির মাঝখানে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি আর ব্রিজ নয়—একটি “মরণ ফাঁদ”।
সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে নির্মিত এই ব্রিজটি দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ব্যবহারের ফলে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্রিজের কাঠামোগত অংশ (টেম্বার) নষ্ট হয়ে মাঝখানে ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্ত। প্রায় দুই বছর ধরে এ অবস্থায় থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। মাঝে মধ্যে অস্থায়ীভাবে সিমেন্ট দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও গর্ত বড় হওয়ায় তা কার্যকর হচ্ছে না। গত পাঁচ মাসে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এই সড়ক দিয়ে আকবপুরসহ আশপাশের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ব্রিজটির এমন বেহাল অবস্থার কারণে তাদের প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও সিএনজি চালিত যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি। ইতোমধ্যে একাধিক অটোরিকশা উল্টে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক শিমুল, বাছির ও শরীফ মিয়া বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পার হতে হয়। অনেক সময় গাড়ির চাকা ভাঙা অংশে পড়ে গিয়ে উল্টে যায়, এতে যাত্রীরা আহত হন।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আকবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল একটি ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামি হয়ে পলাতক থাকায় স্থানীয়ভাবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
ব্রিজটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমার নজরে আসছে। মেরামতের জন্য সম্ভবত একটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই মেরমত কার্যক্রম শুরু করা হবে।”