শিরোনাম
◈ ইলিয়াস আলী গুম: ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত ◈ ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তীব্র সতর্কতা ◈ ওয়ান-ইলেভেনের তিন কুশীলব ডিবি হেফাজতে: মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরোচ্ছে নতুন তথ্য ◈ জ্বালানি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের ◈ দুই গোলে এগিয়ে থেকেও থাইল‌্যা‌ন্ডের কা‌ছে হারলো বাংলাদেশ নারী দল ◈ তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ◈ ওকে লাথি মেরে বের করে দিন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের ◈ বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: জ্বালানি সংকটে প্রথমে ফুরিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ! ◈ শিশুশিল্পী লুবাবার বিয়ে আইনত বৈধ কি না, বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে?

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৫ বিকাল
আপডেট : ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ৯০ স্কুল, ব্যাহত পাঠদান

মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম। উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়নে মোট ২১৭টি সরকারি এবং ২টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৯০টি বিদ্যালয় পুরোপুরি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা সীমিত। তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও এতে পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজে সময় দিতে হচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হলে অন্য শিক্ষকরা তাঁর নির্দেশনা মানতে অনীহা দেখান। এতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শ্যামগ্রাম দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডালিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ২০২১ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নেই। ২০২৫ সালে আমি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব গ্রহণ করি। প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’

অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কুড়িনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. সোহেল রানা বলেন, ‘একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণি নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না, শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে।’

প্রাথমিক শিক্ষক নেতা আবু কাউছার বলেন, প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমন্বয়ের কেন্দ্রবিন্দু। এই পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে।

শ্যামগ্রাম দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. রোস্তম আহাম্মদ বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এতে শিক্ষার মান নাজুক হয়ে পড়েছে। দ্রুত নিয়োগ না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। প্রতি মাসে হালনাগাদ তথ্য পাঠানো হচ্ছে। পদোন্নতির জন্য যোগ্য শিক্ষকদের তালিকাও ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে।’

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়