শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০৮:১৬ রাত
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজশাহীতে জ্বালানি তেল সংকটের অজুহাতে নৈরাজ্য, ভাড়া বৃদ্ধি ও ভোগান্তিতে জনজীবন

ইফতেখার আলম বিশাল : রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ফিলিং স্টেশন ও ডিপো মালিকদের একাংশের তেলেসমাতি খেলায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ, পরিবহন খাত ও কৃষি। তেলের অভাবে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অঘোষিতভাবে বেড়েছে ভাড়া, পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্যপণ্যের দামও।

শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল ও অকটেনের পাশাপাশি ডিজেলও সংকটে পড়েছে। অনেক চালক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এ সংকটে কৃষকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। সেচ কাজে ডিজেল না পেয়ে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ, ফলে উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

সরকারের পক্ষ থেকে তেলের কোনো সংকট নেই বলা হলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখছেন ভোক্তারা। রাজশাহীতে ৪৪টি ফিলিং স্টেশন ও ডিপো থাকা সত্ত্বেও তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পাম্পে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি অরাজকতা লক্ষ্য করা গেছে। বাস টার্মিনাল এলাকায় দেখা গেছে, টিকিটে নির্ধারিত ভাড়া উল্লেখ থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে অঘোষিতভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঈদের আগে রাজশাহী-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। সিলেট রুটেও একই চিত্র দেখা গেছে। ঈদের পরও এই অতিরিক্ত ভাড়া কমেনি।

ঢাকা রুটে কিছু প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির বাস ছাড়া অধিকাংশ বাসেই ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। লোকাল বাসগুলোতে ভাড়া বৃদ্ধি আরও বেশি। রাজশাহী-নওগাঁ রুটে ৩০-৫০ টাকা, তানোর হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও অন্যান্য উপজেলায় চলাচলকারী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। গোদাগাড়ী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটেও ২০-৩০ টাকা বেশি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, যাত্রীরা বাসে ওঠার পর তেলের সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ আপত্তি করলে তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যাত্রীদের এই বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হচ্ছে।

চট্টগ্রামগামী যাত্রী ইলিয়াস জানান, ঈদের আগে ১৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে গিয়েছিলেন, ফেরার সময় ১৫৫০ টাকা দিয়েছেন। আবার বর্তমানে টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। সিলেটগামী যাত্রী খুশবর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকার তেলের দাম না বাড়ালেও কেন ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে—এর কোনো জবাব নেই।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে অতিরিক্ত ১ থেকে ১.৫ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, যা যাত্রীদের কাছ থেকেই আদায় করা হচ্ছে। তবে সংকট কেটে গেলে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না বলেও দাবি তাদের।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, কিছু বাসচালক তেলের সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। বিষয়টি তিনি ঢাকায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।

অন্যদিকে, সিএনজি চালকরাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে পিছিয়ে নেই। রাজশাহী থেকে বাগমারা, তাহেরপুর, তানোর, মোহনপুর, নওগাঁ ও মান্দাসহ বিভিন্ন রুটে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়া না দিলে যাত্রী তোলা হচ্ছে না।

তাহেরপুরের যাত্রী রহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, চালক সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ভাড়া বাড়ালে তবেই গাড়ি চালানো হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের যাত্রীরাও।

রাজশাহী সিএনজি স্টেশনের মাস্টার হাসান আল মামুন বলেন, অনেক চালক পাম্পে তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনছেন। অতিরিক্ত খরচ তুলতে তারা ভাড়া বাড়াচ্ছেন। তবে এই সংকট কাটাতে ফিলিং স্টেশন মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সামগ্রিকভাবে, জ্বালানি তেলের এই কৃত্রিম সংকট রাজশাহীর জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়