ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ হলরুমের মেঝে ফুড়ে বের হচ্ছে ঝর্ণার মত পানি। চলেনা সিলিং ফ্যান। ছিদ্র হয়ে গেছে উপরের ছাউনির টিন। অস্বাস্থ্যকর ওয়াসরুমে গন্ধে ঢোকায় দায়। ছিড়ে গেছে দেওয়ালের শব্দ নিয়ন্ত্রক বক্স। এমন নানান সমস্যায় জর্জরিত প্রতিষ্টানটি হলো ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সরকারী ভূষণস্কুল মাঠ সংলগ্ন অবস্থিত জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এটি চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ওই অডিটোরিয়ামটি বর্তমানে একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ভ’ক্তভোগী স্থানীয়দের প্রয়োজনে বিয়ে, সভা সমাবেশ বা অনুষ্টানের জন্য হলরুমটি ভাড়া নিয়ে পড়ে থাকেন বিপাকে।
সরেজমিনে অডিটোরিয়ামটিতে গিয়ে দেখা গেছে, হলরুমটির ভেতরের অনেক স্থানে মেঝে ফেটে গেছে। দু’টি স্থানের মেঝে ফুড়ে ঝর্ণার মতো পানি বের হচ্ছে। পানিতে ফ্লোর ভেসে যাচ্ছে। এটি হলরুম সংলগ্ন পৌরসভার পানির পাম্পের পাইপ ফেটে ওই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও সমস্যাটি নিরসনে গত ৬/৭ মাসেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
অডিটোরিয়ামটির উপরের ছাউনির অবস্থাও নাজুক। ফুটো হয়ে গেছে অনেকগুলি টিন। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। এতে অনুষ্ঠান শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও উপরের সিলিং ফ্যান গুলোও অধিকাংশ নষ্ট। ফলে গরমের সময়ে অনুষ্টানে আসা অতিথিদের ভেতরে অবস্থান করা অসহনীয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ওয়াশরুমটির অবস্থা অত্যান্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। ওয়ালে ফাটলে ভাঙ্গা অবস্থায় ঝুলে আছে। যে কোন সময় ব্যবহারকারীদের গায়ে পড়ে বিপদ হতে পারে। আর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে লালচে ও কালো হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে ব্যবহারকারীরা বমি করে দেবার মত অবস্থা দাড়ায়।
পাশাপাশি হলরুমটির দেয়ালের শব্দ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কাপড়ের ব্যানারগুলোও ময়লা নোংরা ও অনেক গুলি ছিঁড়ে গেছে। এতে সাউন্ড বক্স ব্যবহারে শব্দ যন্ত্রের সমস্যা ছাড়াও হলরুমের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে অডিটোরিয়াম ভবনটির রং করা হয়নি দীর্ঘদিন। সন্মুখের নাম ফলকের লেখাও মুছে গেছে। যা কর্তৃপক্ষের অবহেলারই প্রমাণ বহন করে। বাইরের কোন মানুষ ভবনটির সামনে এসে বলতে পারে না এটি কিসের ভবন।
ভুক্তভোগী কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতির নেতা শফিউদ্দিন জানান, ভাইপোর বিয়ে অনুষ্টানের জন্য হলরুমটি ভাড়া নিয়েছিলেন। কিন্তু ভেতরে দেখেন আশ্চষ্যজনক ভাবে দু’টি স্থানের মেঝে ফুড়ে অনর্গল পানি বের হচ্ছে। উপরের টিন ফুটো, ফ্যান অচল ও ওয়াসরুমের অবস্থা একেবারেই বাজে। এমন অবস্থার মধ্যে কোন বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠান করা খুবই কঠিন। হলরুম ভাড়া নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়ছেন। তিনি আরো বলেন, এটি একটি সরকারী স্থাপনা। মানুষের প্রয়োজনে ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করেন। কিন্তু এর দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষরা যেন একেবারের উদাসিন। তিনিসহ স্থানীয়রা ভবনটি দ্রুত সংস্কারে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
কালীগঞ্জ পৌর সভার ৫নং ওয়ার্ড জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম সংলগ্ন পানি পাম্পের চালক নুর ইসলাম বলেন, প্রায় ৬/৭ মাস যাবৎ অডিটোরিয়ামটির মধ্যে পৌর সাপ্লাইয়ের পাইপ ফেটে এমন অবস্থা। তিনি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন।
কালীগঞ্জ পৌর সভার ইঞ্জিনিয়ার কবির হোসেন জানান, তিনি সহ জেলার কর্মকর্তারা বিষয়টি সরেজমিনে দেখে এসেছেন। খুব শিঘ্রই ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, অডিটোরিামের ভেতরের পানি পাইপ সমস্যাটি আগে একবার কিছুটা সংস্কার করা হয়েছিল। এখন সেটি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, সবেমাত্র নতুন প্রশাসক নিয়োগ হয়েছে। অডিটোরিয়াম ভবনটির বেহাল অবস্থার বিষয় নিয়ে তার সাথে আলোচনাও হয়েছে। খুব শিঘ্রই প্রকল্পের মাধ্যমেসমস্যাগুলি নিরসনের ব্যবস্থা নিবেন বলে যোগ করেন তিনি।