ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে টেন্ডার বাণিজ্য, আউটসোর্সিং, নিয়োগ ও বিভিন্ন সেবা খাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, এস.এম. রাশিদুল সালেকিন (সুমন), পিএ-র নেতৃত্বে একটি চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে; ওয়ার্ড মাস্টারসহ অন্তত ৮-১০ জন এতে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে এই সিন্ডিকেট একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি অভিযুক্ত সুমনকে অন্যত্র বদলিও করা হয়নি।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া এলাকার শরীফা বেগমের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন ওয়ার্ড মাস্টার রাসেল আলী ও মো. শহিদুল। তাকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কন্ট্রোল রুমে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে পরিচয়পত্র ও পোশাক দেওয়া হলেও নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়নি—কখনও ২ হাজার ৫০০, কখনও ৪ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, করোনাকালে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর কাজে ফিরলে চাকরি স্থায়ী করার কথা বললে অভিযুক্তরা তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক পরিচয়পত্র ও পোশাক কেড়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী রাজপাড়া আমলী আদালতে মামলা করেন (মামলা নং- ৪৩৭, তারিখ: ০১/১২/২০২৪)। তবে এখনো টাকা ফেরত পাননি বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, ওয়ার্ড মাস্টার মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কোয়ার্টারে বিনা অনুমতিতে অতিরিক্ত ইউনিট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ জুন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপপরিচালক ডা. হাছানুল হাবিব ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেবের ছত্রছায়ায় পিএ সুমন দীর্ঘদিন ধরে দাপটের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার করছেন। তারা অভিযোগ করেন, নতুন পরিচালকের কাজেও সহযোগিতা করা হচ্ছে না; বরং নিজেদের মতো করে হাসপাতাল পরিচালনার কারণে সেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, এ চক্র হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে এবং স্বাস্থ্যখাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এর আগে রামেক হাসপাতালের নানা অনিয়ম নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে চাকরির নামে প্রতারণা, ঘুষ গ্রহণ, মানববন্ধন ও কর্মচারীদের অসদাচরণের অভিযোগ উঠে আসে। কিন্তু অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব বলেন, হাসপাতালের সার্বিক বিষয় তদারকি করেন পরিচালক; বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। উপপরিচালক ডা. হাছানুল হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত পিএ এস.এম. রাশিদুল সালেকিন সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।