শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : কুমিল্লার লালমাই পাহাড় এলাকায় শিশু রিফাত হোসেন (৯) হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। নিহতের বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী (৭৪)।
রবিবার বিকেলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলী বড় ধর্মপুর এলাকার মৃত রৌশন আলীর ছেলে।
মামলার তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বরুড়া থানার চন্ডীপুর গ্রাম থেকে রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে সদর দক্ষিণ থানাধীন বড়ধর্মপুর বৈরাগী টিলা এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শরীরজুড়ে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীর স্বভাব-চরিত্র ভালো না হওয়ায় রিফাতের বাবা জসিম উদ্দিন তার ছেলে রিফাতকে তার সঙ্গে মেলামেশা করতে নিষেধ করেছিলেন। একপর্যায়ে তিনি মোহাম্মদ আলীকে সতর্ক করে একটি থাপ্পড়ও দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী একদিন কৌশলে রিফাতকে ফুসলিয়ে লালমাই পাহাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে সে রিফাতকে বলে, “তোর বাবা আমাকে থাপ্পড় দিয়েছে, আজ তোকে মেরে ফেলব।” এরপর সে রিফাতের গলায় দা দিয়ে আঘাত করে। শিশুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
ঘটনার পর রিফাতের বাবা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ মোহাম্মদ আলীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করলেও তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। অবশেষে, ২৫ মার্চ ২০২৬ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই জনি কান্তি দে’র নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তার বসতঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা জানান, গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলী আদালতে হাজির হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।