ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (২৯ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজশাহী রেলস্টেশন সংলগ্ন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল ডিপোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পাচার প্রতিরোধে বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
অধিনায়ক জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে যাতে সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে তেল পাচার না হয়, সে লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সেখান থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ও নৌপথে অবৈধ পাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ মজুদ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজশাহীর পদ্মা অয়েল পিএলসি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপোতে গত ২৫ মার্চ থেকে বিজিবির তিনটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। এসব ডিপোতে সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তথ্য আদান-প্রদান করছেন।
জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় তিনটি ডিপোর মাধ্যমে মোট ৬৪টি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৮ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১২টি ফিলিং স্টেশন। এসব স্টেশনে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
এছাড়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ১৬টি বিওপি’র মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৯২টি বিশেষ টহল ও তল্লাশি অভিযান এবং ২৮৮টি ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। বেলপুকুর ও রাজাবাড়ি স্থায়ী চেকপোস্টে প্রায় ২,৫০০টি ট্রাক, লরি ও অন্যান্য যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
নৌপথে পাচার প্রতিরোধে স্পিডবোটের মাধ্যমে ৪৮টি টহল পরিচালনা করা হয়েছে, যার ফলে নদীপথেও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব। তিনি দেশবাসীকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার আহ্বান জানান।