ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকার অজুহাতে বন্ধ ফিলিং স্টেশন। ডিপো গুলোও বন্ধ রয়েছে একই অজুহাতে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ জনগণ। তবে দিনের বেলায় তেল সংকট দেখালেও রাতের আঁধারে অতিরিক্ত দামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিকট তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও ডিলারদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে বাঘা পেট্রোল পাম্পের সামনে কিছু মোটরসাইকেল তেলের আশায় ভিড় জমালেও তেল মেলেনি কারও গাড়িতে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরেছেন বাইকাররা। স্টক শেষ এমন নোটিশ বোর্ড টানিয়ে বন্ধ রেখেছেন বাঘার একমাত্র ফিলিং স্টেশন। একই চিত্র অন্যান্য দোকান গুলোতেও।
জানা যায়, বাঘা উপজেলার একটি পেট্রোল পাম্প ছাড়াও অনুমোদিত ৫ টি তেলের ডিপো রয়েছে। ডিপো গুলো উপজেলা সদর, বাউসা ইউনিয়নের তেতুলিয়া এবং মনিগ্রাম ইউনিয়নের মনিগ্রাম বাজার ও মাদ্রাসা মোড়ে অবস্থিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ডিপোগুলোতে গভীর রাতে তেলের গাড়ি আসে এবং তারা বিভিন্ন সিন্ডিকেট করে অধিক মুনাফা লাভের জন্য রাতের আধারেই গোপনে তেল বিক্রয় করে দিয়ে দিনে দোকান বন্ধ রাখছে। ফলে স্থানীয় সাধারণ কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকগন চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। এতে করে ঈদ উদযাপনের জন্য দেশের বাড়িতে আগত জনসাধারণ চরম বিপাকে পড়েছেন । এ অবস্থায় ডিলারদের এমন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাম্প ও ডিপোতে সংকট থাকলেও খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩৫০ থেকে ৩৮০/৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় তিনগুণ।
সুশীল সমাজের অভিযোগ, একটি অসাধু সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কিছু পাম্প মালিক সরাসরি গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি না করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সরবরাহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল কিনছেন।
মোটরসাইকেল চালক মোখলেস বলেন, “পাম্পে তেল নেই, কিন্তু বাইরে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে—এটা স্পষ্ট কারসাজি।”
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। কৃষক হাবিব বলেন, “এই সময় সেচ না দিলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
পরিবহন খাতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের অভাবে যান চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
গাড়িচালক শিমুল বলেন, “তেল না থাকলে গাড়ি চালাবো কীভাবে? আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন।”
বাঘা পেট্রোল পাম্পের সত্ত্বাধিকারী লুৎফর রহমান বলেন, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং নতুন সরবরাহ না আসায় বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, বাজারে অনিয়ম রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাতে অধিক দামে অনিয়ম করে তেল বিক্রির অভিযোগ পাইনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।