শিরোনাম
◈ সাভারের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার সেই ‘সাইকো সম্রাট’ কারাগারে মারা গেছে, শেষ হলো অপরাধ অধ্যায় ◈ ট্রাম্পের ঘোষণা মানল না ইসরায়েল, তেহরানে শক্তিশালী বিমান হামলা ◈ ট্রাম্পের ইরান হামলা স্থগিত ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে হঠাৎ কমে গেলো তেলের দাম ◈ ২৫ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ ◈ আলোচনায় অগ্রগতির দাবি: ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের ◈ ২২ দেশের ঐক্যেও হরমুজে ইরানের দাপট কেন কমানো কঠিন ◈ ভারতের বিমানবাহিনীর যেসব তথ্য হাতিয়ে নিল পাকিস্তান ◈ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি ◈ পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা নেই, তবে সরবরাহ সংকটে চাপ বাড়ছে ◈ ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার খুলছে অফিস, ফিরছে কর্মব্যস্ততা

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০২৬, ০৭:১৮ বিকাল
আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: গাফিলতির অভিযোগে মামলা, বরখাস্ত দুইজন ছিলেন প্রশিক্ষণহীন কর্মী

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ, কুমিল্লা : কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে দুই কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানা গেছে, বরখাস্ত হওয়া ওই দুইজন প্রকৃত গেটম্যান নন; তাঁদের একজন ওয়েম্যান এবং অন্যজন অস্থায়ী কর্মচারী ছিলেন, যাঁরা গেট পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিতও ছিলেন না।

লাকসাম রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার বাদী হয়ে আজ সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে এ মামলা করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে গেটম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকা হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন খন্দকার।

মামলার এজাহারে বলা হয়, শেফালী আক্তার চুয়াডাঙ্গা থেকে ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসে করে লাকসামে বাবার বাড়িতে আসছিলেন। পথে পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে। শেফালী আক্তার নিজেও আহত হন; আহত হন তাঁর মা ও খালাও। বাদীর অভিযোগ, লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গাফিলতির কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকার ওই লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরখাস্ত হওয়া দুইজনই নিয়মিত গেটম্যান ছিলেন না। রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, গেটম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক হলেও ওই দুই কর্মী এমন কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন না। তবুও তাঁদের দিয়ে লেভেল ক্রসিং পরিচালনা করা হচ্ছিল।

এ বিষয়ে কুমিল্লা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম বলেন, “এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে প্রশিক্ষণহীন কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এতে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অনেক রেলক্রসিংয়েই দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বিকল্প বা অস্থায়ী কর্মীদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাঁদের মতে, শুধু নিম্নপদস্থ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ এবং নিয়মিত তদারকি।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না।”

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়