জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পেয়ারাতলা গোরস্থান মাঠে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক চাষির ড্রাগন ফলের বাগানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বাগানের প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০টি গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি মো. রিপন মুন্সির দাবি, তার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. রিপন মুন্সি, পিতা গোলাম রসুল, পেয়ারাতলা এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি জানান, দীর্ঘ চার বছর ধরে যত্ন করে গড়ে তোলা তার ড্রাগন বাগান এক রাতেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
বাগানের কর্মচারী মতিন বলেন, “প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে বাগানে এসে দেখি, প্রায় ১২-১৩ কাঠা জমির সব গাছ গোড়া থেকে কাটা। পুরো বাগান নষ্ট হয়ে গেছে।”
আরেক কর্মচারীর দাবি, ঘটনার কয়েক দিন আগে পেয়ারাতলা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুকের ছেলে সাব্বির তাকে হুমকি দিয়েছিল। তিনি বলেন, “সাব্বির বলেছিল, রিপন মুন্সি তার মামাকে আটকে রেখেছে, খুব দ্রুতই এর ফল পাবে।”
এ বিষয়ে রিপন মুন্সি বলেন, সাব্বিরের মামা, বাকা মাঠপাড়ার শহিদুল দেওয়ানের ছেলে নাজমুলকে কয়েক দিন আগে টাকা লেনদেনের ঘটনায় আটক করা হয়েছিল। পরে তার পরিবার জামিনে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এই ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার বাগান কেটে নষ্ট করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে ড্রাগনসহ বিভিন্ন বাগান করেছি। এখানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করে। এই বাগানের ওপর অনেক পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে। শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমও নষ্ট হয়ে গেছে।”
এ ঘটনায় তিনি জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেয়ারাতলা এলাকায় কয়েকশো বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনায় জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সোলাইমান শেখ জানান, আমি চুয়াডাঙ্গায় একটি জরুরী মিটিংয়ে আছি। থানায় পৌঁছে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সহকারে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।