শিরোনাম
◈ এয়ারপোর্ট ও বুর্জ খলিফা টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল ◈ জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা ◈ চলছে তালিকা তৈরির কাজ, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযান ◈ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন: থামাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বিশ্ব শক্তির ◈ খামেনির ছেলেকে পছন্দ নয়, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চান ট্রাম্প ◈ দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও পরিকল্পনায় ইবি শিক্ষিকা খুন—স্বামীর মামলায় ৪ আসামি ◈ স্কুল-কলেজের জন্য আসছে র‍্যাংকিং সিস্টেম: শিক্ষামন্ত্রী ◈ দুই ইস্যুতে বাংলাদেশের আশ্বাস চাইল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে নির্বাচন ইস্যু জুড়ে বিভ্রান্তি: রিজওয়ানা ◈ গ্রাহকদের প্রতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ৭ নির্দেশনা বিদ্যুৎ বিভাগের

প্রকাশিত : ০৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৪ রাত
আপডেট : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইবি শিক্ষিকার জানাজা সম্পন্ন: ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পোস্টমর্টেমে জানা গেল মৃত্যুর কারণ 

মো. ফয়সাল চৌধুরী জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ৫ মার্চ ) বাদ জোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা সম্পন্ন হয়ে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

নিহত শিক্ষকের জানাজায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. ইয়াকুব আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। 

নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ চার সন্তানের জননী। এ ঘটনায় নিহতের সহকর্মী ও স্বজনরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে নিহতের স্বামী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে নিহত শিক্ষকের স্বামী মো. ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় উপস্থিত হয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ চারজনের বিরুদ্ধে, তারা হলেন—  কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানকে।

বিষয়টি  নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান কথা বলতে না পারলেও কলম দিয়ে কাগজে লিখে পুলিশকে কিছু তথ্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে খুব শীঘ্রই এই হত্যার মূল রহস্য তুলে ধরা হবে।

 এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার মৃত্যু গলার বড় রক্তনালী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.ইমাম হোসাইন বিকালের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, অধ্যাপিকা আসমা সাদিয়া রুনার গলার ডান পাশের নিচের দিকে একটি গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। ধারালো ছুরি বা কোনো ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওই ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। এতে গলার বড় রক্তনালী কেটে গেছে। সেখানে প্রচুর রক্ত জমাট বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই রক্তনালী কেটে যাওয়ার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং এর কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অধ্যাপিকার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বুকে, পিঠে, পেটে ও হাতে প্রায় অন্তত ২০টি আঘাত রয়েছে। তবে এসব আঘাত গভীর নয় এবং এগুলোর কারণে মৃত্যু হয়নি। হামলার সময় নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে এসব আঘাত পেয়েছেন তিনি।

পরবর্তীতে আরও উচ্চতর বা ফরেনসিক ময়নাতদন্ত করা হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক ডা. ইমাম হোসেন বলেন, আপাতত, না। কারণ ঘটনাটির সবকিছু পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে। এটা আমাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন। তবে চিকিৎসকদের একটি বোর্ড বসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এ ঘটনায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা হলেন, আরএমও ডা. ইমাম হোসাইন, মেডিকেল অফিসার (এমও) রুমন রহমান ও সুমাইয়া জান্নাত।

ঘাতক ফজলুর রহমান কেমন আছে জানতে চাইলে আরএমও ডা. হোসেন ইমাম  আরও বলেন, এ ঘটনায় আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমানের অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত। তার অবস্থা আগে থেকে উন্নতির দিকে। যেহেতু সে তার শ্বাসনালী নিজেই কেটেছে এতে বড় ক্ষত হয়েছে। তার শ্বাস নেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাকে নিবির পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে (আই সি ইউ) তে রাখা হয়েছে। তার পরিবার ফজলুকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশী পাহারায় তার চিকিৎসা চলমান। শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় সে কথা বলতে পাছে না। তবে ডাকলে সে সাড়া নিচ্ছে। পুলিশ তার লিখিত জবানবন্দি নিয়েছে।

অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনার পর থেকেই নিহতের শিশু সন্তান তাইবা (৯), তাবাসসুম (৭), আয়েশা (৭ মাস) ও এক ছেলে সাজিদের (৫) মা মৃত আসমা সাদিয়া রুনা। তারা বারবার ছুটে যাচ্ছে মায়ের মরদেহের কাছে। মাকে দেখার আকুতি যাচ্ছে। মায়ের মুখ দেখে কান্না থামছে না তাদের। 

নিহত শিক্ষিকা রুনার বাবা আশিকুল হক কান্নারত অবস্থায় বলেন, আমার অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েকে নিয়ে। এই মেয়ে আমার বড় মেয়ে। এখন তার চারটা বাচ্চা এতিম হয়ে গেল। মা ছাড়া এই এতিম বাচ্চাদের কি হবে। কে দেখবে এখন তাদের। ছোট বাচ্চাটা কিভাবে মানুষ হবে মাকে ছাড়া।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে আত্মহননের চেষ্টা করেন একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়