ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় দাদি ও নাতনির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আজ রোববার সকালে নিহত বৃদ্ধার মেয়ে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন। তবে এ ঘটনায় নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশ জানায়, শনিবার ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দুজনের একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার একটি সূত্র জানায়, উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি লোহার রড, একটি বাঁশের লাঠি ও একটি হাতুড়ি। বাড়ির পাশের পুকুর, ধর্ষণের স্থান হিসেবে চিহ্নিত জায়গা এবং সংলগ্ন জমি থেকে এসব সামগ্রী জব্দ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে নিহত দুজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, তদন্তে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়েছে। মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য জানানো যাবে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর বাবা–মা আলাদা থাকেন। বাবা কাজের কারণে কিছুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাড়িতে দাদি ও নাতনি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ শোনা যায়। কয়েকজন প্রতিবেশী বাইরে বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে গেলে তাঁরা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যান।
শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে রক্তাক্ত অবস্থায় বৃদ্ধার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। নাতনিকে ঘরে না পেয়ে খোঁজ শুরু হয়। পরে পাশের একটি সরিষাখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।