ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: চাহিদা মেটাতে এবার রাজশাহীতে পদ্মা নদীর জেগে ওঠা চরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে পতিত থাকা পদ্মার চরে ব্যাপক আকারে পেঁয়াজ আবাদ করে ইতোমধ্যে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। বিশেষ করে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের নবগঙ্গা এলাকার চরে পেঁয়াজ চাষে এক ধরনের কৃষি বিপ্লব ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এর আগে এসব চরে প্রধানত মসুর ডাল, কালাই, গম, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হতো। পদ্মার তীরবর্তী কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ চাষ হলেও নদীর গভীরে জেগে ওঠা চরে কখনো বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ আবাদ হয়নি। তবে এবার সেই চিত্র বদলেছে। প্রথম বছরেই বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। পদ্মার প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে জেগে ওঠা চরে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন কৃষক ইউনুস ভুঁইয়া। লিজ নেওয়া জমিতে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এ আবাদ শুরু করেন। শুরুতে শঙ্কা থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেই শঙ্কা কেটে যায়। তিনি জানান, চরের মাটি পরীক্ষা করে এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ পেঁয়াজ চাষিদের পরামর্শ নিয়েই আবাদ শুরু করা হয়। চারা রোপণের এক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ সোজা হয়ে দাঁড়ায় এবং ১৫ দিনের মাথায় দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বর্তমানে গাছের বৃদ্ধি দেখে তিনি আশাবাদী। ইউনুস ভুঁইয়া বলেন, “উঁচু জমিতে বিঘাপ্রতি ৭০ থেকে ৭৫ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। কিন্তু চরের গাছের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এখানে বিঘাপ্রতি প্রায় ১০০ মণের কাছাকাছি ফলন হতে পারে।”
পদ্মার চরের বালুমাটির কারণে সেচ কিছুটা বেশি দিতে হচ্ছে। এজন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করে চায়না মেশিনের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে চরের পলিমাটির কারণে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে বলে জানান চাষিরা। ইউনুস ভুঁইয়া আরও জানান, উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ করা হবে। তার দাবি, এ পেঁয়াজ রাজশাহীর স্থানীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। একই চরে প্রায় অর্ধশত বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন হরিপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য বাবর আলী। তিনি বলেন, “আগে তীরবর্তী এলাকায় রসুন, পেঁয়াজ, বাদাম ও বিভিন্ন জাতের ডাল চাষ করতাম।
এবার প্রথমবার গভীর চরে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে পেঁয়াজের আকার তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে উঁচু জমির চেয়ে চরের পেঁয়াজ আকারে বড় এবং ফলনেও বেশি হবে।” তবে চলতি মৌসুমে পদ্মার চরে মোট কত হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই রাজশাহীর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের কাছে। এমনকি চরে চাষ হওয়া জমিগুলোর নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চাষিরা বলছেন, যথাযথ সরকারি তদারকি ও সহায়তা পেলে পদ্মার চরে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারণ সম্ভব।