শিরোনাম
◈ থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : বিমানমন্ত্রী ◈ ১৮ মাস পর নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরলেন ড. ইউনূস ◈ পরাজয় দিয়ে মৌসুম শুরু ‌মে‌সির ইন্টার মায়ামির ◈ নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, পোশাক খাতে শঙ্কা: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বিশ্লেষণ ◈ পদত্যাগ করলেন ঢাবি ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান ◈ বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচন কবে নাগাদ, জানালো ইসি ◈ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বিষয়ে সভা ◈ জামায়াত আমিরের স্ত্রীসহ সংরক্ষিত মহিলা আসনে আলোচনায় যারা ◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ◈ নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার আরমান!

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:১৪ সকাল
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শেরপুর সিমান্ত এলাকায় অস্তিত্ব সংকটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা

তপু সরকার হারুন, শেরপুরঃ শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর বেশ কয়েকটি মাতৃভাষা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, শিক্ষক ও গবেষকেরা মাতৃভাষা রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তজুড়ে গারো, হাজং, কোচ, বানাইসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্য হাতি, বন্য শুকর ও বিষাক্ত সাপের ঝুঁকি, দুর্গম
যোগাযোগব্যবস্থা এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই তাদের জীবনযাপন করতে হয়।জীবনসংগ্রামের এই বাস্তবতায় শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনি কমে যাচ্ছে মাতৃভাষার চর্চাও।

স্থানীয় শিক্ষক ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ পরিবারে এখন শিশুদের সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলার প্রবণতা বাড়ছে। মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাতৃভাষার ব্যবহার না থাকায় নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে নিজস্ব ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের শহরমুখী অভিবাসনও ভাষা হারানোর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের পাঁচটি মাতৃভাষায় পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে মাঠপর্যায়ে এর সুফল মিলছে সীমিত আকারে। স্থানীয় শিক্ষকদের অভিযোগ, চলতি বছর অনেক বিদ্যালয়ে সময়মতো মাতৃভাষার বই পৌঁছায়নি।

মাতৃভাষা ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক পরিমল কোচ বলেন, আমাদের কোচ সম্প্রদায়সহ জাতিগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা রয়েছে। নিয়মিত পড়াশোনা ও চর্চা না থাকলে কয়েক প্রজন্মের মধ্যেই এই ভাষা হারিয়ে যাবে। সরকারের কাছে অনুরোধ, ভাষাগুলো টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বারোমারি সেন্ট লিও স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অগ্নেশ সরেন বলেন, একটি জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার
প্রধান ভিত্তি তার নিজস্ব ভাষা। পাহাড়ের পাদদেশে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। আগে গারো ভাষার পাঠ্যপুস্তক পেলেও এ বছর কোনো বই পাইনি। অন্যান্য বইয়ের মতো বছরের শুরু থেকেই নিজস্ব ভাষার মাতৃভাষার বই হাতে পেলে শিশুদের শেখানো সহজ হয়।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠান, লোকগান ও ধর্মীয় প্রার্থনায় মাতৃভাষার
ব্যাপক ব্যবহার ছিল। এখন সেই পরিসর সংকুচিত হওয়ায় ভাষার ব্যবহারও সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের শিক্ষিত তরুণদের শহরমুখী হওয়ায় গ্রামে শিশুদের মাতৃভাষা শেখার পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

কারিতাসের নালিতাবাড়ী উপজেলা সমন্বয়কারী হিলারিয়ুস রিছিল বলেন, গারো, হাজং ও কোচ সম্প্রদায়ের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আগে মাতৃভাষা শেখার সুযোগ দিতে আমরা কাজ করছি। তবে বৃহৎ পরিসরে সরকারি সহায়তা ছাড়া ভাষা সংরক্ষণ সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৪৬টি ভাষার মধ্যে ৪০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা। এর মধ্যে অন্তত ১৪টি ভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যেসব ভাষা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলোর উপাত্ত সংগ্রহ ও ভাষা-নথিভুক্তকরণ করা হচ্ছে। ভাষা টিকিয়ে রাখতে গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়