আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আলামিন হোসেন নামে এক গ্রাম্য ডাক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে তারাবি নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দূর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে। হত্যার শিকার ডাক্তার আলামিন শার্শার গাতিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। এদিকে হত্যা কান্ডের একদিন হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলামিনের দুই স্ত্রীসহ ৪ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গ্রাম ডাক্তার আলামিন সেবা দানের জন্য বেশ প্রিয় ছিল স্থানীয় মানুষের কাছে। শার্শার নাভরন গাতিপাড়া বাজারে মিম মেডিকেল হল নামের একটি ফার্মেসীর দোকানে বসতেন তিনি। সাংসারিক জীবনে দ্বিতীয় বিবাহকে কেন্দ্র করে অশান্তি নামে তার পরিবারে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আলামীনকে মারধোর করে প্রতিবেশি এক যুবক। আর এঘটনার কিছুদিন পর গতকাল রাতে দোকান বন্ধ করে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার মটরসাইকেল গতিরোধ করে দূর্বৃত্তরা। পরে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পুলিশ হত্যা রহস্য উৎঘাটনে পরিবারের অভিযোগে সন্দেহ ভাজন ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। প্রাথমিক ধারনা দ্বিতীয় বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাকে হত্যা করা হতে পারে। এদিকে সন্তান হারা অসহায় বাবা, মা খুনিদের দ্রুত সনাক্ত করে আটক ও শাস্তির দাবি করেছে।
আলামিনের চাচাতো ভাই রাজিব জানান, তার ভাইয়ের খুনিদের দ্রুত সনাক্ত করে আটকের দাবি জানাচ্ছি। প্রতিবেশি রহিম জানান, এভাবে একজন চিকিৎসককে হত্যা করা ঠিক হয়নি। কার সন্তানেরাও এতিম হলো।
শার্শার নাভরন সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, প্রাথমিক ধারনা করা হচ্ছে আলামিন পরবর্তী বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। সন্দেহ ভাজনদের হেফাজতে নিয়ে তথ্য উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে।