জাকির হোসেন, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও): এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও -৩ আসনের ভোটের ময়দানে ঝড় তুলেছিলেন সর্ব কনিষ্ঠ স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি। সামাজিক মাধ্যমে তার প্রতিটি পদক্ষেপ ঘিরে ছিল কৌতূহলি হাজার হাজার চোখ। তারুণ্যের উন্মাদনা আর অগণিত নারীর প্রত্যাশাকে সঙ্গী করে লড়াইয়ে নেমেছিলেন ‘টক অব দ্য টাউন’ আশা মনি।
কিন্তু ব্যালট বাক্স খুলতেই দেখা গেল রূঢ় বাস্তবতা। যে তরুণদের কাঁধে ভর করে বৈতরণী পার হতে চেয়েছিলেন, ফলের হিসাবে দেখা গেল- জয়ের বন্দর তো দূরস্থ, কার্যত খড়কুটোর মতোই ভেসে গিয়েছেন এই কনিষ্ঠ আলোচিত প্রার্থী।
পরাজয় নিশ্চিত হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ আর অভিমানে ফেটে পড়েন আশা মনি। ফেসবুক পোস্টে তার সাফ কথা, ‘খুব খারাপ লাগছে। তরুণদের এত পরিশ্রম এক নিমিষেই শেষ করে দিলেন। আজ শুধু আশা মনি হারেনি, হেরেছে হাজারও তরুণ আর নারীর মন।’ তার এই আবেগঘন পোস্ট ঘিরে এখন উত্তাল নেটপাড়া।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে ১০ জন প্রার্থী থাকলেও মূল যুদ্ধটা সীমাবদ্ধ ছিল ধানের শীষ বনাম দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। লড়াইয়ের শেষে শেষহাসি হেসেছেন বিএনপির জাহিদুর রহমান। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৭।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৯১ হাজার ৯৩৪ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন মাত্র ২৭ হাজার ১৩৩ ভোট।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, যে আশা মনিকে নিয়ে এত চর্চা, তার ঝুলিতে পড়েছে মাত্র ২৭৯টি ভোট। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন ‘জনগণের মনোনীত’ হয়ে ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন; কিন্তু ফলের হিসাবে তিনি তালিকায় নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়। তার নিচে রয়েছেন কেবল মুসলিম লীগের এসএম খলিলুর রহমান সরকার (১১৩ ভোট)।
রাজনীতির আঙিনায় আবেগ আর বাস্তবের ব্যবধান যে অনেকটা, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের ফলাফল তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল। গ্যালারির তালি যে সবসময় গোলপোস্টের ঠিকানা খুঁজে পায় না, আশা মণির ‘ফুটবল’ প্রতীকই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
এ ব্যাপারে আশা মনি বলেন, আমি শুধু হারিনি, হেরেছে হাজারও তরুণ আর নারীর মন। যারা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন।