জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৮০ নম্বর আসন চুয়াডাঙ্গা-২—যেখানে তিন দশক ধরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত প্রায় সমান শক্তি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে।
ইতিহাস বলে—এখানে পালাবদল নিয়মিত ১৯৮৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত জাসদ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও বিএনপি পালাক্রমে জিতলেও ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা চারবার জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের আলী আজগার টগর।
তবে কয়েকটি নির্বাচনে বির্তক ও বর্জনের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।
পুরোনো নির্বাচনের ভোটচিত্র
১৯৯১: জামায়াত ৪৯,৬৮৮ | বিএনপি ৪০,০২০
১৯৯৬ (জুন): বিএনপি ৬৪,৭৫৫ | আ.লীগ ৬৩,৭৩২ | জামায়াত ৪৮,৯৪৪
২০০১: বিএনপি ১,৪৬,৬৪৮ | আ.লীগ ১,০৭,০৫০
২০০৮: আ.লীগ ১,৫৬,৩২৩ | জামায়াত ১,৪৩,৪১৮
২০২৪: আ.লীগ ১,০৭,০৫৯ । স্বতন্ত্র (ট্রাক প্রতীক) ৬০,৮৩৪ এই উপাত্ত প্রমাণ করে—তিন দলেরই প্রায় লাখ-লাখ ভোটের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে।
২০২৬ সালের ভোটার সমীকরণ: চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে হালনাগাদ ভোটার এখন চার লাখ পচানব্বই হাজারের কিছু বেশি।
এত বড় ভোটের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে— বিএনপির মাহমুদ হাসান খান বাবু বনাম জামায়াতের রুহুল আমিন। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় তাদের স্থায়ী ভোট কোন দিকে ঝুঁকবে—এটাই বড় প্রশ্ন।
জয়ের হিসাব—কমপক্ষে ২ থেকে ২.৫ লাখ ভোট স্থায়ী দলীয় ভোটব্যাংক যথেষ্ট নয়। বিজয়ী হতে হলে প্রয়োজন— কমপক্ষে ২ লাখ নিশ্চিত ভোট আর প্রার্থীভেদে নতুন অতিরিক্ত ১ লাখ ভোট
আওয়ামী লীগ সমর্থকরা যদি সীমিত আকারে ভোট দিতে আসে, তাহলে জয়ের বারোমিটার উঠবে আড়াই লাখে। গেমচেঞ্জার—তরুণ ও প্রবাসী ভোটার জীবননগর থেকে শুরু করে পুরো আসনজুড়ে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল বলছে—বিএনপি ও জামায়াতের ব্যবধান খুবই কম।
এবার নতুন যুক্ত হচ্ছে প্রথমবার ভোটার ও প্রবাসী সম্প্রদায়—যারা সিদ্ধান্ত নেবেন শেষ মুহূর্তে।
শেষ বিশ্লেষণ
তিন দলের ঐতিহাসিক ভোটব্যাংক স্থানীয় রাজনীতির পালাবদল। আগস্ট ২০২৪–এর পর নতুন মনোভাব
দুই প্রার্থীর সক্রিয় প্রচারণা। সব মিলিয়ে চিত্রটি খুব স্পষ্ট—
? চুয়াডাঙ্গা-২–এ জয় কারো জন্যই সহজ হবে না।
? ব্যবধানও বড় হওয়ার সম্ভাবনা কম।
? জীবননগর প্রথমবার পাচ্ছে নিজ এলাকার এমপি—এটিও ভোটের মানসিকতায় বড় ভূমিকা রাখবে।