আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল বন্দর দিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে মোট ১,৩৯৮ জন পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। একই দিনে ভারতের সঙ্গে ৫৭৫ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আমদানি–রফতানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা এবং বাণিজ্য খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
শুক্রবার সকালে বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৭৪.২০ ভারতীয় রুপি। ভারতীয় ১০০ রুপিতে মিলেছে ১৩২ টাকা। প্রতি মার্কিন ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।
বন্দর সূত্র জানায়, বেনাপোল–পেট্রাপোল রুটে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আমদানি–রফতানি কার্যক্রম চলে। বৃহস্পতিবার ভারত থেকে মোট ৪৪৬ ট্রাক পণ্যের আমদানি হয়। এর মধ্যে ৩৩৪ ট্রাকে ৬,৬১৫ মেট্রিক টন শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশু খাদ্য, মেশিনারি পণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী আসে। এছাড়া ১১টি ট্রাক চ্যাসিস আমদানি হয়েছে।
খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয়েছে ৩৮ ট্রাকে মোট ৯৮৮.২৯৩ টন। এর মধ্যে ১০ ট্রাকে ২৮৬.৯২০ টন আনার, ৭ ট্রাকে ২৩৬.৩২০ টন কেনু, ১১ ট্রাকে ২৮৭.৬৪০ টন আঙুর, ২ ট্রাকে ৫৫.৮৪০ টন কমলা, ১ ট্রাকে ১.০৮০ টন বরই এবং ৫ ট্রাকে ১৪৯.৯৪০ টন মাছ রয়েছে। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার ৩ ট্রাক, ১ ট্রাকে ২০.১০০ টন ফুলের চারা, ১৫ ট্রাকে ২৩৯.১৫০ টন তরল গ্যাস, চাল ৪ ট্রাকে ১২০.৮৪০ টন এবং কাঁচা তুলা ৪৬ ট্রাক আমদানি হয়েছে।
একই দিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি হয়েছে ১২৯ ট্রাকে মোট ১,২৪৬.৮৯২ মেট্রিক টন পণ্য। রফতানিযোগ্য পণ্যের মধ্যে ছিল বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন, কেমিক্যাল, কাঁচা লোহা, মাছ ও ওয়ালটন পণ্য। তবে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট, পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি বন্ধ রয়েছে।
বন্দর সূত্র আরও জানায়, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আমদানি বন্ধ আছে।
বৃহস্পতিবার পচনশীল পণ্য পরিবহনে বেনাপোল থেকে ঢাকা ট্রাকভাড়া ছিল ২১–২২ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম ২৮–৩০ হাজার, খুলনা ১০–১১ হাজার এবং বরিশাল ১৯–২০ হাজার টাকা। অ-পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে ঢাকা ১৭–১৮ হাজার, চট্টগ্রাম ২৩–২৪ হাজার, খুলনা ৮–৯ হাজার এবং বরিশাল ১৬–১৭ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে ওই সময়ের পর দুই দেশের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় আমদানি–রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এক বছর ধরে দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর ফলে গত বছরে আগের বছরের তুলনায় দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১,০১২ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। একই সময়ে পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল–পেট্রাপোল রুটে পাসপোর্টধারী যাতায়াত শুরু হয়। ১২ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ভ্রমণ কর ১,০০০ টাকা এবং বন্দর কর ৬১ টাকা। ৫–১২ বছর বয়সীদের জন্য ৫৬১ টাকা এবং ৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু ৬১ টাকা বন্দর কর নেওয়া হয়। ক্যানসার রোগী, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভ্রমণ কর ৬১ টাকা। চলতি মাস থেকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় যাত্রীদের জন্য ৪০০ রুপি এবং বিদেশিদের জন্য ৮০০ রুপি ভ্রমণ কর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মোট ১,৩৯৮ জন দেশি–বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ৮১০ জন (বাংলাদেশি ৬৩৯, ভারতীয় ১৬৯, অন্যান্য ২ জন) এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৫৮৮ জন (বাংলাদেশি ৪৯০, ভারতীয় ৯৪, অন্যান্য ৪ জন)। অনিয়মিত অবস্থানের কারণে বিদেশি পাসপোর্টধারীদের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেলপথে বর্তমানে এসিআই মোটরসের মাধ্যমে কেবল ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি হচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর অন্যান্য পণ্যের রেল আমদানি বন্ধ রয়েছে এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা–বেনাপোল–কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও বন্ধ আছে।