শিরোনাম
◈ নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলা‌দেশ দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তার ◈ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই খুব উত্তপ্ত, দফায় দফায় সংঘর্ষ ◈ ঢাকা থেকে ১১৮ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ১৮৩৬২ যাত্রী ◈ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি: তারেক রহমান ◈ একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আশাবাদী, জানালেন পরিকল্পনা ◈ প্রশাসনে সচিব পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে দপ্তর বদল ও পদায়ন করেছে সরকার, কে কোথায় গেলেন ◈ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব ◈ যাত্রীশূন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এমন রূপ কেউ কখনও দেখেননি আগে (ভিডিও) ◈ এবার টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, হামলার দায় স্বীকার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৭ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্য ৩৭৬ ট্রাক, পাসপোর্টধারী যাতায়াত ১২৪৬ জন

আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি : বেনাপোল বন্দর দিয়ে গতকাল ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছে ১২৪৬ জন পাসপোর্টধারী। এসময় ভারতের সাথে ৩৭৬ ট্রাক পণ্যের আমদানি,রফতানি বাণিজ্য হয়েছে। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের প্রায় ১১ লাখ টাকা আর বাণিজ্য খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, শনিবার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে মিলেছে ৭৫ ভারতীয় রুপি এবং ভারতীয় ১০০ রুপিতে বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১৩২ টাকা। প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।

বন্দরের তথ্য মতে, বেনাপোল ও পেট্রাপোল মধ্যে সকাল ৯ টা থেকে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়। এবং বাণিজ্য শেষ হয় রাত ১০ টায়।

Advertisement

শনিবার দিনভর ভারত থেকে আমদানি হয় ২৭৬ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং ৩২ টি ট্রাক চ্যাচিজ। অনান্য আমদানি পণ্যের তালিকায় ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, শিশু খাদ্য, মেশেনারিজ দ্রব্য, অক্সিজেন, বিভিন্ন প্রকারে ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য। একই দিনে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে ১০০ ট্রাক পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা টিসু, মেলামাইন, কেমিকেল মাছ ও ওয়ালটন পণ্য সামগ্রী। ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কারনে বেনাপোল স্থলপথে পাট,পাটজাত দ্রব,তৈরী পোশাক,কাটের তৈরী আসবাব পত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি হয়না।দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারন দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।

এদিকে শনিবার বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত পচনশীল জাতীয় আমদানি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিলো ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, চট্রগ্রাম ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা,খুলনা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে পচনশীল জাতীয় কাচামাল ছাড়া অনান্য পণ্য পরিবহনে বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিলো ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা, চট্রগ্রাম ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা,খুলনা ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা বলে ট্রান্সপোর্ট সুত্রে জানা গেছে। 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গতবছরের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্যের উপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি, রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত অর্ধেকের নিচে কমে এসেছে। এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে গত বছরে তার আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে। এতে চলতি অর্থবছরের গেল ৬ মাসে লক্ষমাত্রার চেয়ে এক হাজার ১২ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। বাণিজ্যে পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ইমিগ্রেশন তথ্য জানান, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬ টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাতায়াত। একজন পাসপোর্টধারীকে ভারত ভ্রমন করতে ১২ বছরের উধ্বে পাসপোর্টধারীদের ভ্রমন কর ১০০০ টাকা এবং বন্দর কর ৬১ টাকা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হয়। ৫ বছর থেকে ১২ বছরের নিচে যাত্রীদের ৫৬১টাকা এবং ৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল মাত্র বন্দর কর ৬১ টাকা দিতে হয়। ক্যানসার,প্রতিবনন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভ্রমন কর মাত্র ৬১ টাকা। এছাড়া চলতি মাস থেকে নতুন করে ভারত অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের ভ্রমন কর গুনতে হচ্ছে ৪০০ রুপি ও বিদেশিদের ৮০০ রুপি। শনিবার ভোর সাড়ে ৬ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১২৪৬ জন। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৬২০ জন। এসব যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ৪২৬ জন, ভারতীয় ছিল ১৮৪ জন। অনান্য দেশের ছিল ২ জন। এসময় ভারত থেকে ফিরেছে ৬২৬ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৫০৯ জন ও ভারতীয় ছিল ১১৭ জন । ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।

এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেলপথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারকের কেবল ভারত থেকে ট্রাকটর আমদানি হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলে অনান্য পণ্যের আমিদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারনে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।

  • সর্বশেষ