শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন নির্দেশ: খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি শনাক্তে তদারকি জোরদার ◈ দুই যুদ্ধ এক সুতোয়: ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে বৈশ্বিক ঝুঁকি—গার্ডিয়ান ◈ চাই‌নিজ তাই‌পে‌কে হা‌রি‌য়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব শুরু কর‌লো বাংলাদেশ ◈ সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে অফিস ৯টা–৪টা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ দোকানপাট- শপিংমল: মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ◈ মার্চ মাসে রপ্তানি ঘাটতি ২০ শতাংশ ◈ ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ঢাকায় ৮ নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা ডিএসসিসির ◈ বিসিবি থে‌কে আরও এক পরিচালক পদত্যাগ করলেন ◈ হরমুজ সংকটে তেল-গ্যাস বাজার অস্থির, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: জাতিসংঘ ◈ মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা—কঠিন বাস্তবতায় আসছে নতুন বাজেট ◈ বিকল্প রুটে জ্বালানি আমদানি, সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন তেল

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৪৯ বিকাল
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি হাজার কোটি টাকা

আজিজুল হক, বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল কাস্টমস হাউসে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা। বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং মিথ্যা ঘোষনায় রাজস্ব ফাঁকি বাড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে বলছেন বাণিজ্য সংশিষ্টরা। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বছর শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হওয়ার সম্ভবনা ব্যক্ত করেছেন। 

বেনাপোল আমদানি,রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দেশের চলমান ১৪ টি বন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি,রফতানি হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতি অর্থবছর শুরুতেই আমদানি পণ্য থেকে নিদিষ্ট পরিমানে রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা দেয় ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা । আর অর্থবছরটির প্রথম ৬ মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) এই এই লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। তবে ৬ মাসে মাত্র আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে দেখা গেছে লক্ষমাত্রার চেয়ে ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা।

আমদানিকারক হাবিবুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি রাজস্ব আঢ হবার কথা। তবর ০৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাণিজ্যর নিরাপত্তা ঘাটতির সুযোগে আমদানি পণ্য পাচার করে শুল্কফাঁকি এবং আমদানি বাণিজ্য বেশ কিছু পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞায় রাজস্ব ঘাটতির কবলে পড়ে কাস্টমস হাউস। 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সংঠনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বৈধ সুবিধা না পেয়ে বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারনেও আমদানি কমেছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দ্রুত পণ্য খালাস ও বৈধ সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হলে এপথে আমদানির ও রাজস্ব আয় বাড়বে। 

বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক শহীদ আলী জানান, বন্দরে আমদানি কমায় বেকার হয়ে পড়েছে শ্রমিকরা। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দুই দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আজিম উদ্দীন বলেন, বন্দরে আমরাও নিরাপত্তা চাই। তবে নিরাপত্তার নামে দির্ঘক্ষন ধরে ট্রাক আটকে তল্লাশীতে এপথে ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়েছেন। যতি ভারতের মত বেনাপোল বন্দরে পণ্য প্রবেশ দ্বারে স্কানিং মেশিন থাকে তবে হয়রানি কুমবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারি কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ২০২৫- ২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন ৫০৮ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৫৪৪:০৪ কোটি টাকা। আগস্ট মাসের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়  ৪৯৩ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৪৪৭'৯৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০১ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৫১৩' ৫৮ কোটি টাকা। অক্টোবর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪৫ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৪৪৯.২৮ কোটি টাকা। নভেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫৫ কোটি টাকা।

সেখানে আদায় হয়েছে ৫৬৪.৪১ কোটি টাকা। অথ্যাৎ ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৩১ কোটি টাকা। এ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৬০০. ৮১ কোটি টাকা। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রথম ৬ মাসে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। এই ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। যারা শুল্কফাঁকির সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে জরিমানাসহ কাস্টমস আইনে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব কুমলে ও বছর শেষে লক্ষমাত্রা পুরণ হতে আশা করছি।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান, সবশেষ ১০ জানুয়ারি বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৫৬ মাত্র ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং রফতানির পরিমান ছিল ৮০ ট্রাক। অথচ স্বাভাবিক সময়ে আমদানি হতো ৬ থেকে ৭০০ ট্রাক পণ্য এবং রফতানি ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক। বাণিজ্যে নিরাপত্তা বাড়াতে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারনে অনেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়