মাে. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের সাজিদ এখন ভাগ্যের চাকা ঘুরাচ্ছেন কৃষিতে। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে অল্প সময়েই তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।
তার এই সাফল্য এখন এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প। জানা যায়- কয়েক বছর প্রবাস (সৌদি আরব) জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে নিজ গ্রামের আহমেদ সিটি গার্ডেন অনাবাদি পতিত জমিতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে করলা চাষ শুরু করেন। মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধিতে জলবায়ু সহিষ্ণু "মহারানী হাইব্রিড করলা" আবাদ শুরু করেন। কৃষি বিভাগের "ফ্ল্যাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিসট্যান্স প্রজেক্টের" আওতায় একটা প্রদর্শনীর মাধ্যমে উপকরণ সহযোগিতা নেন। পরে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আবু নোমানের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মালচিং, ড্রিপ ইরিগেশন এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেন- ফলে উৎপাদন খরচ কমে আসে এবং ফলন উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়। সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়- আহমেদ সিটি গার্ডেনের পতিত জমি পরিষ্কার কাজ এখনো চলমান।
আবাদকৃত ৪০ শতাংশ জমিতে করলা উত্তোলন চলছে। এখন পর্যন্ত করলা উত্তোলন করা হয়েছে প্রায় ৬০০ কেজির মতো। বাজারে করলা এখন পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার টাকার করলা বিক্রি হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও দেড় মাসে আনুমানিক দেড় থেকে ২ টন করলা বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান সাজিদ। তিনি আরও জানান- প্রবাস থেকে দেশে এসে স্থায়ী ভাবে সবচেয়ে নিরাপদ ও সম্মান জনক পেশা হিসেবে কৃষিই আমার মনে হয়েছে। চলতি মৌসুমে আমি আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা, অফ সিজন তরমুজ আবাদের পরিকল্পনা আছে। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আবু নোমান জানান- বর্তমানে তার খামার থেকে নিয়মিত ভাবে স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহ হচ্ছে। এতে যেমন তার আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে, তেমনি কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান ও সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান- সাজিদের সাফল্য প্রমাণ করে যথাযথ উদ্যোগ, পরিশ্রম ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কৃষিই হতে পারে লাভজনক ও টেকসই পেশা। প্রবাস ফেরত সাজিদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজকে কৃষিমুখী হওয়ার একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে।