ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোশালপুর গ্রামে ভারতের সীমান্তঘেঁষা ইছামতী নদীর বাংলাদেশ অংশ থেকে জুয়েল রানা (২০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরে এলাকাবাসির মনে চরম রহস্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে নদীর মধ্যে কচুরিপানার ভেতর ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত জুয়েল রানা খোশালপুর গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়,গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জুয়েল সীমান্তের শূন্য লাইনের ভেতরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ গজ দূরে খোশালপুর মাঠে ঘাস কাটতে যান এবং এরপর নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে পরদিন ইছামতী নদীতে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায় ও পাশের একটি খেত থেকে তাঁর পরনের ব্যবহৃত প্যান্ট ও শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম পিএসসি জানান, জুয়েল রানা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। তবে নিহতের মা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে কয়েকদিন ধরে একই গ্রামের তিন যুবকের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত করত এবং অবৈধ মালামাল বহনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ ছিল, ঘটনার দিন ওই তিনজনের মধ্যে দু’জন বাড়ি ফিরলেও তাঁর ছেলে আর ফেরেনি,যা মৃত্যুকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মতে, একদিকে সীমান্তের ইছামতী নদীতে যুবকের নিথর দেহ পড়ে ছিল, অন্যদিকে একই সময়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) হেডকোয়ার্টারে বিজিবি দিবস উপলক্ষে চলছিল আনুষ্ঠানিক উৎসব,এই বৈপরীত্য দৃশ্য ঘটনাটিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।