আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর) : ১৯৮২ থেকে ২০২৫ দির্ঘ ৪৩ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১০ বার গ্রেফতার হয়েছেন। দির্ঘ ৫ বছরের বন্দী জীবনে প্রায় তিন বছর চার দেয়ালের মাঝে কয়েদী জীবন কাটিয়েছেন।
তৎকালিন সরকার তাকে দূর্বল ও মানসিক যন্ত্রনা বাড়াতে সন্তানকে নির্যাতন করে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে৷ আর এক সন্তান তারেক রহমানকে দেশ ছাড়া করেছে। এত কিছুর পরেও তিনি দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে কোন আপস করেনি৷ এমন কি সুস্থ্য থাকতে চিকিৎসা সেবা নিতে দেশ ছাড়েনি। আজ তিনি নাই। তবে তার এই দেশ প্রেম হাজার বছর মনে রাখবে বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষ।
বুধবার দুপুরে বেনাপোল স্থলবন্দর প্রশাসনিক ভবনের সামনে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১ সংগঠনের আয়োজনে সাবেক প্রধান মন্ত্রী খালেদা আত্মার শোক সভায় যশোর ৮৫/১ আসন শার্শায় ধানের শিষের মনোনিত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন এসব কথা বলেন।
বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক শহীদ আলীর সঞ্চলনায় খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণে এসময় নুরুজ্জামান লিটন আরো বলেন, ১৯৮০ দশকে এরশাদের সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধিতা এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি "আপোষহীন নেত্রী" হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেগম জিয়া।
তার প্রধান মন্ত্রীত্বকালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে পরিণত হয়। কর্মসংস্থানের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। তিনি জাতিসংঘে গঙ্গার পানি-বণ্টনের সমস্যা উত্থাপন করেন যাতে বাংলাদেশ গঙ্গার পানির ন্যায্য অংশ পায়। নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় তাকে ২৯ নম্বরে স্থান দেয়। তিনি রাজনৈতিক জীবনে ৫ টি জাতীয় নির্বাচনে ২৩ টি আসনে নির্বাচন করেন। তার আদর্শ্য,দেশ প্রেম ও ত্যাগের কারনে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী।
২০০৯ সালে যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে, তখন তিনি গণতন্ত্রের জন্য তার লড়াই নতুন করে শুরু করেছিলেন। সরকার তাকে জোরপূর্বক তার বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু করায় তাকে দুইবার গৃহবন্দী করা হয়ে। গণতন্ত্রের প্রতি তার ভূমিকার জন্য তাকে ২০১১ সালে নিউ জার্সির স্টেট সিনেট "গণতন্ত্রের জন্য যোদ্ধা" উপাধিতে সম্মানিত করে। দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হলে মুক্তি পান তিনি। শেখ হাসিনা সরকারের কারাবন্দী জীবন তিলি তিলে মৃত্যুর দোয়ারে ঠেলে দেয়।
তিনি জীবন দিয়েছেন কিন্তু কখনো আপোস করেনি। কারণ তিনি বলতেন বাংলাদেশ তার ঠিকানা । আর আপনজন এদেশের মানুষ। তার জানাযায় প্রায় কোটি মানুষের উপস্থিতি আরো একবার প্রমান দিলো তিনি এদেশের আপামর মানুষের কতটা আপন হয়ে উঠেছিল। আজ তিনি নাই, কিন্তু তার ত্যাগ ও সৃষ্টির অনন্য ইতিহাস মানুষের মাঝে তিনি হাজার বছর বেঁচে থাকবেন।
দোয়া অনুষ্ঠানে এসময় অনান্যদের মধ্যে ছিলেন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু,পৌর বিএনপির সহ সভাপতি মোঃ শাহাবুদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহর উল্লাহ মেম্বার সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান আক্তার,উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম,বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মিলন, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সভাপতি সাহেব আলী মাষ্টার,
বেনাপোল পৌর কৃষকদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জামা হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন, বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ, পরিবহন বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।।