জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): ভোরের আলো ফোটার আগেই কাজের চিন্তা শুরু হয় আব্দুস সালামের। বয়স তখন মাত্র ১৪—যখন অনেকের হাতে ছিল বই-খাতা, তখন তার হাতে উঠেছিল কাজের যন্ত্র। অভিজ্ঞ কারিগর আতিয়ার রহমানের কাছেই শেখা শুরু। সেই শেখাই আজ তার জীবনের ভরসা।
জীবননগর পৌরসভার পোস্ট অফিস পাড়ায় বসবাস করেন ৪৮ বছর বয়সী এই পরিশ্রমী মানুষটি। প্রায় ২৫ বছর ধরে নিজের ছোট দোকান চালিয়ে আসছেন। ঝাঁপ তোলার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় আরেকটি সংগ্রামের দিন—যেখানে লাভ নয়, টিকে থাকাই বড় সাফল্য।
তার সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে পড়াশোনায় আছে—এই কথাটুকু বলতেই তার চোখে ভেসে ওঠে একরাশ স্বপ্ন। “এই কাজ করেই সংসার চলে,” সহজ ভাষায় বলেন তিনি, কিন্তু এই সরল বাক্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে অসংখ্য অনিশ্চয়তা।
সারা বছর কাজ সমান থাকে না। কার্তিক, অগ্রহায়ণ ও পৌষ—এই তিন মাসেই একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন তিনি। তখন প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়। বাকি সময়গুলোতে দিন চলে হিসাব করে, প্রয়োজন কমিয়ে।
আব্দুস সালামের জীবনে কোনো বড় গল্প নেই—আছে নীরব লড়াই। ঘাম ঝরিয়ে, মাথা নিচু করে, সততার সঙ্গে কাজ করে যাওয়াই তার পরিচয়। এমন মানুষেরাই দেশের অর্থনীতির অদৃশ্য ভিত্তি—যাদের গল্প খুব কমই শিরোনাম হয়, কিন্তু যাদের ছাড়া জীবন থেমে যায়।