কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী ( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৯জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলকারির যাচাই বাছাই অনুষ্টিত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এর কার্যালয়ে রবিবার।
তাতে মূল হলফ নামা ও অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর না থাকায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফুল হক তায়েফ এর মনোনয়ন বাতিল করেছে। তিনি রবিবার রাতে এ প্রতিনিধিকে জানান, এ ব্যাপারে আপিল করবেন। তার প্রত্যাশা আপিল করলে অবশ্যই তিনি প্রার্থী ফিরে পাবেন। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলীর দুদকের মামলার ডকুমেন্ট নিয়ে সমস্য হলে প্রথমে মনোনয়ন স্থগিত করে পরে আবার বিকালে বৈধ ঘোষনা করেন।
এদিকে অপর ৮জন প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সহ সেক্রেটারি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও গন্ডামারার সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লেয়াকত আলী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রার্থী এডভোকেট কফিল উদ্দীন চৌধুরী,নেজামে ইসলাম পাটির প্রার্থী মুহাম্মদ মূসা বিন এজহার, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী আবদুল মালেক আশরাফী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী এহছানুল হক এর মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করেন।
এদিকে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য দেশে বিগত ১২ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালী আসনে ৫বার আওয়ামীলীগ,৫বার বিএনপি এবং ২ বার জাতীয় পাটির প্রার্থী বাঁশখালী আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের শাহ-ই-জাহান চৌধুরী। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর জাতীয় পার্টি থেকে ১৯৮৬ সালের ৭ মের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী,এবং ১৯৮৮ সালের ৩মার্চ চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুুয়ারির ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সুলতান-উল-কবির চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হন। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সপ্তম জাতীয় সংসদ ১৯৯৬ সালে ১২ জুনের নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়। এরপর ২০০১ সালের ১অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে আবারো বিএনপি প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, এবং সরকারের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হিসাবে ও দায়িত্ব পালন করেন। বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।
এরপর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭ জানুয়ারি ২০২৪ এর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক মুজিবুর রহমান সিআইপি এমপি নির্বাচিত হয়ে সড়ক ও জনপদ মন্ত্রনালনের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে কে হবে চট্টগ্রাম ১৬ বাঁশখালী আসনের জাতীয় সংসদের সদস্য তা এখন ও জঠিল সমীকরণে বলে স্থানীয় ভোটারদের মতে।