শিরোনাম
◈ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনে না আসায় বিরোধী দল শহীদ পরিবারকে অবজ্ঞা করেছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ কুমিল্লার সমেশপুরে সবজির চারা বিক্রিতেই ১৫ কোটি টাকার বাণিজ্য, লক্ষ্যমাত্রা ২০ কোটি! ◈ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানে কাজের নতুন সুযোগ, নিয়োগ শুরু ২০২৭ সালের এপ্রিলে ◈ সৌদি আরবে ভারি বৃষ্টির জন্য চার অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি ◈ সর্বজনীন পেনশন নিয়ে সুখবর, যেভাবে লাভবান হবেন গ্রাহকেরা ◈ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের লেনদেন ◈ ইশরাককে মন্ত্রিসভার বৈঠকে না যাওয়ার নির্দেশ, পদত্যাগপত্রও চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী: শফিকুল আলমের পোস্ট ◈ কলেরা প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর প্রশংসায় বিল গেটস!(ভিডিও) ◈ টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির পর সালমান খানকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি, ভাইরাল অডিও ◈ ভারতীয় ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের জন্য আসছে নতুন পরিবর্তন

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:৪০ বিকাল
আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আধুনিকতার কাছে হার মানছে গ্রামবাংলার নরসুন্দর পেশা

জামাল হোসেন খোকন: মানুষ সৌন্দর্যের পূজারী। আর ছেলেদের সৌন্দর্যের বড় একটি অংশ নির্ভর করে চুল ও দাড়ি কাটার ধরন ও পরিপাটির ওপর। সে কারণেই যুগ যুগ ধরে সমাজে নরসুন্দর বা নাপিতদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া ও সময়ের পরিবর্তনে চুয়াডাঙ্গা জেলার গ্রামাঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী এই পেশাটি এখন বিলুপ্তির পথে।

একসময় গ্রামে গ্রামে ঘুরে কিংবা হাট-বাজারে পিঁড়ি বা টুল পেতে বসে চুল-দাড়ি কাটতেন নরসুন্দররা। সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মানুষ এখন ঝুঁকছে এসি-নন এসি সেলুনের দিকে। ফলে প্রথাগত নাপিতরা পড়েছেন চরম সংকটে।

কালের বিবর্তনে শহর-বন্দর ও গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে গড়ে উঠেছে আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ সেলুন। উন্নত প্রসাধনী ও আধুনিক পরিবেশে চুল-দাড়ি কাটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন মানুষ। এর ফলে হাটে পিঁড়িতে বসে চুল কাটার সংস্কৃতি প্রায় হারিয়ে গেছে। অনেকেই এখন প্রকাশ্য স্থানে বসে চুল কাটতে লজ্জাবোধ করেন। অথচ একসময় ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে নিকটবর্তী হাটে গিয়ে পিঁড়িতে বসে চুল কাটাই ছিল গ্রামবাংলার স্বাভাবিক চিত্র।

বুধবার সরেজমিনে জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী ও উথলী হাট ঘুরে কথা হয় কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ নরসুন্দরের সঙ্গে। তারা জানান, বর্তমানে চুল ও দাড়ি কাটার জন্য ১৫–২০ টাকা নেওয়া হলেও আগের মতো কাজ হয় না। এত কম দামে কাজ করেও দিনে প্রয়োজনীয় আয় হচ্ছে না।

Advertisement

নরসুন্দর মনোরুদ্দিন জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি গ্রামে-গঞ্জে ও হাট-বাজারে ঘুরে এই পেশায় যুক্ত। আগে ৩ টাকায় চুল ও ২ টাকায় দাড়ি-গোঁফ কাটলেও তখন সংসার ভালোভাবেই চলত। কিন্তু বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও আয় বাড়েনি। সারাদিন ঘুরে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরেও রোজগার হয় অপ্রতুল। বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী পেশা ছেড়ে যেতে না পারায় এখনও বাজারের ব্যাগে যন্ত্রপাতি ভরে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।

আরেক নরসুন্দর রবিউল আলম বলেন, গ্রামে কাজ করলে সব বয়সী মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, যা বৃদ্ধ বয়সে মানসিক প্রশান্তি দেয়। তবে অর্থাভাবে আধুনিক সেলুন দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে এই পেশা থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।

স্থানীয়দের মতে, নাপিত পেশা বিলুপ্ত হয়ে গেলে গ্রামবাংলার শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ অল্প টাকায় চুল-দাড়ি কাটার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। বাধ্য হয়ে তাদের যেতে হবে শহরের ব্যয়বহুল, কাচঘেরা বিউটি সেলুনে।

নরসুন্দরদের দুঃখ-কষ্টের কথা খুব কম মানুষই শোনেন। আয় কমে যাওয়ায় দিন দিন এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন অনেকে। ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণসহ স্বল্প সুদের ঋণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।