চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : পদ্মার কোলঘেঁষা ফরিদপুরের শান্ত গ্রাম—চরভদ্রাসন। নদীর পানি যেমন আসে আবার দূরে সরে যায়, ঠিক তেমনই ঋতুর পালাবদলে বদলায় এখানকার মানুষের জীবন। তবে বদলায় না মানুষের মায়া, আর বদলায় না গ্রামের সহজ-সরল সৌন্দর্য।
গ্রামের উত্তর পাশে মেঠোপথের ধারে দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরোনো শিমুল গাছ। সেই গাছের নিচেই বসে বই পড়তে ভালোবাসে আরিয়ান। শহরের স্কুলে পড়ে ঠিকই, কিন্তু ছুটি পেলেই দৌড়ে চলে আসে নানার বাড়ি চরভদ্রাসনে। এখানে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুরা—নদীর ঢেউ, বাতাসের ছোঁয়া আর গ্রামের মানুষের আন্তরিক হাসি।
এক বিকেলে শিমুলতলায় বসে নদীর ওপারের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ আরিয়ান দেখল এক অপূর্ব দৃশ্য—মেঘের ফাঁক গলে রঙধনু নেমে এসেছে যেন চরভদ্রাসনের বুকেই! মনে হলো রঙধনুর শেষে লুকিয়ে আছে কোনো আশ্চর্য গল্প।
ঠিক তখনই পাশ থেকে ডাক দিল রিমি—
“আরিয়ান ভাই, নদীতে পানি বাড়ছে! চলো, বাঁধের দিকে যাই!”
দু’জনে দৌড়ে গেলো নদীর ধারে। দেখা গেলো, পানি বাড়ছে—তবুও গ্রামজুড়ে ভয় নেই। সবাই একসঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বাঁধ মজবুত করতে। চরভদ্রাসনের মানুষ এমনই—নদী যতবারই পরীক্ষা নিক, তারা ততবারই হাত ধরে দাঁড়ায় একসাথে।
আরিয়ানও বালুভর্তি বস্তা টেনে এনে সাহায্য করতে লাগল; রিমি বস্তার গিঁট দিলো। বড়রা হাসতে হাসতে বললেন—
“এই ছেলেটা তো মনে-প্রাণে চরভদ্রাসনের মানুষ!”
কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি থেমে গেলো। বাঁধের কাজও শেষ হলো। সবাই যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো, তখন আকাশে আরও স্পষ্ট হলো সেই রঙধনু—যেন গ্রামের মানুষের ঐক্য, সাহস আর ভালোবাসার প্রতীক।
নানা আরিয়ানের কাঁধে হাত রেখে বললেন. “বুঝলে বাপু, চরভদ্রাসন শুধু একটা উপজেলা নয়; এটা মানুষের সাহস, ভালোবাসা আর এক হয়ে দাঁড়ানোর নাম।”
নদীর দিকে তাকিয়ে আরিয়ান মনে মনে অনুভব করল—এই মাটির গন্ধ, এই মানুষের সরল মন আর রঙধনুর গল্প তার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।