আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর): ভালো কাজের প্রলোভনে বিভিন্ন সময়ে ভারতে পাচারের শিকার হওয়া ৩০ বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারতীয় পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী রয়েছেন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বেনাপোল চেকপোস্টে তাদের হস্তান্তর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।
ফেরত আসা নারী-পুরুষদের পুলিশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আইনি সহায়তা প্রদান করবে রাইটস যশোর, মহিলা আইনজীবী সমিতি ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার। তারা প্রাথমিকভাবে এসব ভুক্তভোগীদের হেফাজতে রাখবে এবং পরবর্তীতে পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করবে।
ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হলেন:
আলাল মণ্ডল, ইউছুপ শেখ, রমজান শেখ, রাজু শেখ, মলয় মণ্ডল, সুদীপ্ত মণ্ডল, নাজিম উদ্দিন, ইয়াসিন, সোহেল সরদার, আরমান মোল্লা, তামিম গাইন, রিফাত হাসান, আব্দুল্লাহ শেখ, করিমুল খান, সিয়াম মল্লিক, আনোয়ার হোসেন, স্বপ্না মণ্ডল, শাহিন রেজা, অহনা শেখ, রুবি সরদার, মিম খাতুন, শারমিন আলী, তুম্বপা পারভিন, সাবা খান, রাবেয়া খাতুন, ঝরনা খাতুন, সামসুন নাহার ও রাজিব ইসলাম। তাদের বাড়ি রংপুর, ঠাকুরগাঁও, খুলনা, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে।
রাইটস যশোরের তথ্য ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা তৌফিকুজ্জামান জানান, বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশের সময় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রত্যাবাসনের অনুমতি দেয়।
জানা গেছে, ভালো কাজ বা প্রেমের প্রলোভনে পড়ে অনেক নারী-পুরুষ ও শিশু ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের শিকার হচ্ছেন। সেখানে নিয়ে তাদের জোরপূর্বক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগানো হয়। পাচারের শিকার মানুষের মাত্র ৫ শতাংশ উদ্ধার হয়, বাকিদের কোনো সরকারি বা বেসরকারি তথ্যভাণ্ডারেই সঠিক অবস্থান নেই।
ভারতের বিভিন্ন হোমে ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত আইনি জটিলতায় আটকে থাকার পর অবশেষে ভারত-বাংলাদেশ সরকারের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন এই ৩০ ভুক্তভোগী।