আজিজুল হক, বেনাপোল প্রতিনিধি (যশোর): বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা ৪০ জন এপিবিএন সদস্যকে প্রত্যাহার করে তাদের পরিবর্তে জেলা পুলিশের সমসংখ্যক সদস্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে বন্দরের নিরাপত্তায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি হবে না।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (১৭ নভেম্বর) থেকে আমদানি–রফতানি বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের ৪০ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এর আগে গত ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সাহাজাদা মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এপিবিএন প্রত্যাহার ও জেলা পুলিশ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণ ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বেনাপোল বন্দরে কর্মরত ৪০ জন এপিবিএন সদস্য এবং দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির নিরাপত্তায় থাকা ২০ জন এপিবিএন সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে।
বেনাপোলের আমদানি–রফতানিকারক ইদ্রিস আলী বলেন, “অভিজ্ঞ আর্মড পুলিশ সরিয়ে জেলা পুলিশ নিয়োগ দিলে নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটে যেতে পারে। বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত।”
আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, বদলির নির্দেশ পাওয়ার পর অনেক সদস্যই ইতোমধ্যে ক্যাম্প ছেড়ে গেছে।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসি আব্দুল আল মামুন সাহা বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার থেকে জেলা পুলিশের সদস্যরা বন্দরের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন শুরু করবে।”
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচনে আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বন্দর থেকে এপিবিএন সদস্যরা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পরিবর্তে একই সংখ্যক জেলা পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে পোর্ট থানা পুলিশ দায়িত্ব নেবে এবং দ্রুতই জেলা পুলিশের সদস্যরা যোগদান করবেন। এতে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে জানান তিনি।
বন্দর সূত্র জানায়, বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ২০১২ সালের ৭ জুলাই এপিবিএন পুলিশ নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে বন্দরে এপিবিএন ছাড়াও ১৬৩ জন আনসার সদস্য এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা আল-আরাফার ১৪০ জন কর্মী নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।