শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ দেখা যা‌বে সর্বনিম্ম ২০০ টাকায়  ◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৫২ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধামরাইয়ে দিশেহারা কৃষক: পানি নিষ্কাশন না থাকায় শত শত হেক্টর জমি পানির নিচে

মো: আদনান হোসেন, ধামরাই ঢাকা: ঢাকার ধামরাইয়ে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সোমভাগ ইউনিয়নের তিন গ্রামের শত শত হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে আছে। সরিষা, ধানসহ শীতকালীন মৌসুমি চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়েছে, দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারের বেশি কৃষক। কলকারখানার মালিকদের অপরিকল্পিতভাবে মাটি ভরাট ও পানির গতিপথ বন্ধ করে দেওয়াকে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকরা।

উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের উত্তর জয়পুরা পশ্চিম পাড়ার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষা শেষ হওয়ার পরও পানি সরতে না পেরে জমি এখনো হাঁটু–সমান পানিতে ডুবে আছে। একসময় এই এলাকায় বর্ষা শেষে খুব সহজেই পানি নিষ্কাশন হতো। ধান, পাট, সরিষা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের চাষাবাদ হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দুই পাশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা ও রাস্তা নির্মাণের কারণে পানি যাওয়ার নালা-খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

৭০ বছরের অভিজ্ঞ কৃষক মো. দুলু মিয়া বলেন,“আগে বর্ষা গেলেই পানি নেমে যেত। জমিতে ধান–পাট–সরিষা সবই চাষ করতাম। এখন মিল–কারখানার মালিকরা যেভাবে খুশি মাটি কেটে বাঁধ দিচ্ছে, ফলে পানি বের হতে পারছে না। তাই জমি বছরের পর বছর পানির নিচে পড়ে আছে।”

সোমভাগ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের উত্তর পাশে গড়ে ওঠা কারখানাগুলো নিজেদের সুবিধামতো পানির গতিপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হলে হাজার টনের বেশি সরিষা ও ধান উৎপাদন সম্ভব।”

স্থানীয় কৃষক মো. হারুন রশীদ জানান, “এই সময়ে আমরা সরিষা লাগাতাম, পরে ধান। এখন জমিতে এত পানি যে ধান লাগানোও সম্ভব নয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে আমরা বছরে দুই–তিন ফসলের সুযোগ হারাচ্ছি।”

একই কথা জানান এলাকার এক স্কুলশিক্ষকও। তিনি বলেন,“সহস্রাধিক কৃষকের একমাত্র দাবি—পানি নিষ্কাশন। সময়মতো পানি বের হলে ফসল উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়বে।”

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন,অপরিকল্পিত কলকারখানায় স্থাপনের ফলে মাটি দিয়ে খাল ভরাট হয়ে যাওয়া জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে “সরেজমিনে যাচাই করে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামনুন আহমেদ অনিক বলেন,“এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। জয়পুরা বাজার এলাকা থেকে নালায় ময়লা ফেলা হয়, পাশাপাশি অপরিকল্পিত মিল–কারখানা নির্মাণে পানি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যেহেতু ক্যানেলটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে পড়েছে, তাই যৌথ উদ্যোগে সমাধান করা হবে।”

স্থানীয়কৃষকেরা বলছেন,দ্রুতপানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নাহ লে ধামরাই ফসল উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়