জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিএনপি নেতা আবুল কালামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার মাত্র আধাঘণ্টা পর স্থানীয় ছাত্রদলের এক নেতা তার ফেসবুক আইডিতে ক্রিকেট খেলার একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন—“আউট”। এ পোস্টকে হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বলে অভিযোগ তুলেছে নিহত নেতার পরিবার।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোস্তফার দোকান এলাকায় আবুল কালামকে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
অভিযুক্ত কাউসার মানিক বাদল (ছোট কাউসার) চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হলেও, চলতি বছরের ৩ নভেম্বর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তিনি একটি হত্যা মামলারও আসামি।
নিহত আবুল কালামের সঙ্গে কাউসারের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল বলেও স্থানীয়রা জানান।
হত্যার প্রায় ৩০ মিনিট পর রাত ৯টার দিকে কাউসার তার ফেসবুক আইডি কে এম বাদল থেকে একটি ক্রিকেট ম্যাচের ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে একজন রানআউট হচ্ছেন। ভিডিওতে কাউসার দৃশ্যমান না হলেও, পোস্টের “আউট” শব্দটি নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন নিহতের স্বজনরা।
আবুল কালামের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার বলেন, “আমার স্বামীকে খুনের পর কাউসারের পোস্ট করা ভিডিও কাকতালীয় নয়। এটি হত্যার ইঙ্গিত করেই দেওয়া হয়েছে।”
যোগাযোগ করা হলে কাউসার মানিক বাদল বলেন, “ঘটনার সময় আমি লতিফপুর বাজারে মোস্তফার দোকানে ছিলাম। কালাম ভাই বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার সঙ্গেই ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
ফেসবুকে “আউট” লেখার বিষয়টি নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন, বাড়ির সামনে ক্রিকেট খেলেছি, সেই ভিডিও দিয়েছি। এর সঙ্গে খুনের কোনো সম্পর্ক নেই।”
হত্যার পর রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি তিন দিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ্যানি বলেন, “বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু নৃশংসভাবে কাউকে খুন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. ফয়েজুল আজীম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে—কাউসার ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত। তার ‘আউট’ লেখা ভিডিওটিও পুলিশের নজরে এসেছে। চার-পাঁচজন দুর্বৃত্ত হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। ঘটনার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে।”
নিহত আবুল কালামের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।