মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর): জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অসময়ে বৃষ্টির প্রভাবে ও ঝড়ো বাতাসে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের কাঁচা-আধাপাকা শত শত বিঘার ধান পড়ে গেছে। কিছু কিছু জমি পানিতে তলিয়ে গেছে পানিতে ভাসছে সেই সকল জমির ধান। কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল এ ভাবে নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধানের চাষ করেছে কৃষকরা। এবছর তুলনামুলক ভালো ফলন হয়েছিলো। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস হওয়ার ফলে প্রায় ৮ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১২০ হেক্টর জমির ধান মাটিতে পড়ে ও পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে। ধানের পাশাপাশি মরিচ ৪০ হেক্টর, শাক-সবজি ২০ হেক্টর ও ৬ হেক্টর ভুট্টা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সবকটি ইউনিয়নের কৃষিজমিতে পানি জমা ও ধান মাটিতে পড়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকার পড়ে যাওয়া ধানগাছ গুলো পানির উপরে ভাসতে দেখা গেছে। কাঁচা-অর্ধপাকা ধান পুরো পাকার মুহুর্তে হঠাৎ এই বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ধান গাছ পড়ে যাওয়ায় সময়মতো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা।
চর পোগলদিঘা গ্রামের কৃষক হাসান মিয়া বলেন, আমার দেড় বিঘা জমিতে স্বর্ণ ৫ ধান লাগিয়েছি। এখন মাত্র ধানের থুর (শীষ) বের হয়েছে। এর মধ্যেই বাতাশের কারনে সব গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। শষ্যক্ষেতে পানি জমে যাওয়ার কারনে ধান কাটা অসম্ভব তাই গাছ পানিতে ডুবে পচে যাচ্ছে। আবার কয়েক জায়গায় ধানের গাছ থেকে নতুন গাছ জন্মাচ্ছে। পুরো ফসলই নস্ট হওয়ার কারনে এ বছর লোকসানে পড়তে হবে।
গাছ বয়ড়া গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন নাজমুল, শাহ জালাল পরাণ বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কৃষি কাজ ও ফসল চাষ করেই সংসার চালাই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছিলাম। এখন ধান আধা-পাঁকা অবস্থায় আছে। কিন্তু বৃষ্টি ও বাতাসের কারনে সব ধান মাটিতে পড়ে গিয়ে পচে যাচ্ছে। আমাদের পুরো বছরের পরিশ্রম ও লাভ একেবারেই শেষ হয়ে গেলো।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার অনুপ সিংহ বলেন, অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারনে কৃষক ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধানের পাশাপাশি নস্ট হয়েছে মরিচ, শীতকালীন শাক-সবজি ও ভুট্টা। আমরা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রনোদনার মাধ্যমে সহযোগীতা করার ব্যবস্থা করবো।