শিরোনাম
◈ যে কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি, নেপথ্যে যা জানা গেল ◈ জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি নির্দেশনা ◈ ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দিল্লি থেকে টাকা আসছে কলকাতায়, উসকানি ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ থেকে: দিলীপ ঘোষ ◈ ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ কার্যকর ◈ নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, চালকসহ ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত ◈ ভারতের আসামে দুই দিনে ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, ভাঙা হলো ১০টির বেশি মসজিদ ◈ ১৪৮ দিন পর জয়ের দেখা, স্বস্তিতে টটেনহ্যাম ◈ সব ধর্মের মানুষের ঐক্যে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ◈ অতিরিক্ত উৎপাদনে আলুর দরপতন, কেজিতে ১৪ টাকা পর্যন্ত লোকসানে কৃষক ◈ মব থামছে না, দিন‌কে দিন রাজ‌নৈ‌তিক চেহারা পা‌চ্ছে, নেপথ্যে কী?

প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৫০ বিকাল
আপডেট : ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিরলে অবহেলিত নৃ-গোষ্ঠী শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা দিচ্ছেন মানবিক দম্পত্তি

এম. এ. কুদ্দুস, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় অবহেলিত ও শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন এক মানবিক দম্পত্তি। নিজেদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পাঠশালার মাধ্যমে তারা শুধু শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দিচ্ছেন না, পাশাপাশি শিখাচ্ছেন সামাজিক মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক। তাদের প্রচেষ্টায় এলাকায় বাল্যবিবাহের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

মানবিক এই দম্পত্তি হলেন — ধর্মপুর ইউনিয়নের আনসার ভিডিপি কমান্ডার কমল চন্দ্র সরকার এবং তার স্ত্রী লতা রানী সরকার। তারা ৮নং ধর্মপুর ইউনিয়নের ছোট চৌপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে এলাকার পিছিয়ে পড়া আদিবাসী ও সাঁওতাল শিশুদের কথা ভেবে তারা নিজ বাড়িতে একটি পাঠশালা গড়ে তোলেন। কাজের ফাঁকে এবং ছুটির দিনগুলোতে এই দম্পত্তি নিয়মিত শিশুদের পাঠদান করে আসছেন। বর্তমানে তাদের পাঠশালায় ২২ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশু নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করছে।

কমল চন্দ্র সরকার জানান, “২০১২ সালে মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে আনসার বাহিনীতে যোগ দিই। সমাজে বঞ্চিত ও শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের কষ্ট দেখে মনে হয়েছিল, শিক্ষা ছাড়া তাদের জীবনে পরিবর্তন সম্ভব নয়। সেই ভাবনা থেকেই ছোট পরিসরে এই উদ্যোগ নিয়েছি।”

Advertisement

তার স্ত্রী লতা রানী সরকার বলেন, “আমরা চাই, এই শিশুরাও যেন অন্য সবার মতো আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।”

শিক্ষার্থী শিশুদের অভিভাবকেরা জানান, “আমাদের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমরা কমল চন্দ্র সরকার ও লতা রানীর প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাদের মতো মানুষ সমাজে বিরল।”

এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা পেলে এই দম্পত্তি আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনন্য উদাহরণ স্থাপন করবেন।

  • সর্বশেষ