শিরোনাম
◈ এক যুগের বেশি সময় পর ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত, বদলে যাচ্ছে সড়কের নকশা ◈ সুখবর পেলেন ঋতুপর্ণারা, ফিফা নারী র‍্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে ১০৬ নম্বরে বাংলাদেশ ◈ রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন তারেক রহমান ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে স্টোর ভবনে আগুন ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ২৬ অক্টোবর, সই হবে অন্তত ৪ সমঝোতা স্মারক ◈ যে কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি, নেপথ্যে যা জানা গেল ◈ জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি নির্দেশনা ◈ ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দিল্লি থেকে টাকা আসছে কলকাতায়, উসকানি ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ থেকে: দিলীপ ঘোষ ◈ ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ কার্যকর ◈ নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, চালকসহ ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ০৯:৩২ রাত
আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল খেয়ে রোগীরা সুস্থতা ফিরে পাচ্ছেন

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুন্দুরিয়া গ্রামের আকতার হোসেন ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল ভেঙে মাসে আয় করছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তার উদ্যোগে তিনজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে তার লাল চালের চাহিদা থাকায় দেশের ৪০টি জেলায় বিক্রি হচ্ছে তার ভাঙানো আমন ও আউশ জাতের চাল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘিওরের কুন্দুরিয়ার অবাক মার্কেটে সারাক্ষণ হুটহাট শব্দে ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল ভাঙানো হচ্ছে। কাঠের ঢেঁকির সঙ্গে বৈদ্যুতিক মোটর ও সার্কিট ব্রেকার যুক্ত করে আকতার হোসেন নিজেই উদ্ভাবন করেছেন এই ইলেকট্রনিক ঢেঁকি। এতে ধান চূর্ণ করে প্রাকৃতিক উপায়ে লাল চাল উৎপাদন করা হয়।

এখানে মনোয়ারা ও জাহানারা নামের দুই নারী সারাক্ষণ কাজ করেন। পাশে ধান সংরক্ষণের স্থান ও চাল প্যাকেজ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এখান থেকেই জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে চাল। প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত আমন ধানের ‘ভাওয়াইলা’, ‘দীঘা’, ‘ডাপো’ ও আউশ ধানের ‘কালো মানিক’ জাতের চাল উৎপাদন করেন তিনি। স্বাস্থ্যসম্মত ও উপকারী হওয়ায় এলাকাজুড়ে তার ঢেঁকি ছাঁটা ঘরে ভিড় করছে ক্রেতারা।
 
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল কবির বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলাম। ডাক্তার আমাকে লাল চাল খেতে বলেছিলেন। পরে আকতার হোসেনের ঢেঁকি ঘরের চাল খেয়ে এখন আমি সুস্থ।’
 
রহিম উদ্দিন, যিনি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন, বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল খেয়ে আমি ভালো আছি। আকতার হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

আরেক গ্রাহক কামাল হোসেন বলেন, ‘আগে অতিরিক্ত ওজনে ভুগতাম। সাত বছর ধরে ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল খেয়ে এখন অনেকটা সুস্থ আছি।’
 
আকতার হোসেনের ঢেঁকি ঘরে তিনজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নিয়মিত বেতন ও সুবিধা পেয়ে খুশি তারা। কর্মচারী আনোয়ারা বলেন, ‘আগে অনেক কষ্টে দিন কাটতো। এখন এখানে কাজ করে মাসে সাত থেকে আট হাজার টাকা বেতন পাই। জীবনে অনেক উন্নতি হয়েছে।’
 
আরেক কর্মচারী জাহানারা বলেন, ‘এখানে খুব ভালো মানের চাল হয়। আমাদের চাল অনেক জেলার মানুষ খায় এটা আমাদের জন্য গর্বের।’
 
আকতার হোসেন জানান, ২০২০ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসক তাকে লাল চালের ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন। তখন থেকেই তিনি নিজেই ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল উৎপাদনের চিন্তা করেন। ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে তৈরি করেন ইলেকট্রনিক ঢেঁকি। শুরুতে অনেকেই উপহাস করলেও এখন তার চাল বিক্রি হচ্ছে জেলার বাইরেও।
 
তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে প্রায় ৫ টন আমন ও আউশ ধানের চাল বিক্রি হয়। নিজের অসুস্থতা কাটিয়ে এখন সুস্থ আছি এবং আয় করছি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।’ সূত্র: সময়