ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া ( কুমিল্লা ) প্রতিনিধিঃ নদী-নালা, খাল-বিল, নিচু জমি ও বিভিন্ন জলাশয়ে পানি বেড়েছে। এতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দেশী প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য দেখা দিয়েছে। আর এসব মাছ ধরতে পেশাদার মাছ শিকারী ছাড়াও সৌখিন মাছ শিকারীরা বাঁশের তৈরি চাঁই বা আন্তা ব্যবহার করছেন। এতে এ উপজেলায় মাছ ধরার ফাঁদ চাঁইয়ের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মাছ ধরার ফাঁদ চাঁইয়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে। চাঁই তৈরির কারিগররাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমে এই উপজেলায় কমবেশি মাছ ধরার ফাঁদ বিক্রি হয় বিভিন্ন বাজারে। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। উপজেলার সাহেবাবাদ, শিদলাই, ধান্যদৌল, মালাপাড়া, চান্দলা, শশীদল ও শিদলাই বাজারে মাছ ধরার ফাঁদ চাঁই বিক্রির হাট বসে। এসব হাটে পাইকারি ও খুচরা ক্রয়-বিক্রয় করা হয়।
এই সময়টায় ক্রেতা বিক্রেতায় হাটগুলো সরগরম থাকে। এ উপজেলার বাসিন্দারা ছাড়াও আশপাশের উপজেলার বাসিন্দারাও এসব হাটে মাছ ধরার ফাঁদ চাঁই কিনতে আসেন। প্রতিটি হাটে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। সরেজমিনে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের দুলালপুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ ধরার ফাঁদ চাঁই কেনা-বেচার ধুম পড়েছে। বাঁশের তৈরি বিভিন্ন আকারের চাঁইয়ের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাঁই কিনতে এসেছেন ক্রেতারা। ক্রেতা বিক্রেতা আর দরকষাকষিতে চাঁইয়ের হাট যেন সরগরম। দরদাম করে চাঁই কিনছেন ক্রেতারা। কেউ কেউ একসাথে কয়েকটি চাঁইও কিনছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর উপজেলার খাল-বিল, নিচু জমি ও বাড়ির আশপাশের ছোট-বড় জলাশয় নতুন পানিতে ভরে গেছে। যার ফলে এসব স্থানে প্রবেশ করেছে দেশীয় ছোট মাছসহ নানা প্রজাতির মাছ।
আর এসব মাছ ধরতে স্থানীয়রা ব্যবহার করছেন বাঁশের তৈরি চাঁই। এজন্য এ উপজেলায় মাছ ধরার চাঁই বিক্রি বেড়েছে। বছরের এই সময়টায় চাঁই বিক্রি বেশি হয়। মাছ ধরার ফাঁদ চাঁই কিনতে এসেছেন রহমত আলী নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এবার আমাদের বর্ষার পানি জমা মাঠে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। আগের বাজারে দুটি আন্তা ( চাঁই ) কিনে নিয়েছিলাম। আজকেও আন্তা ( চাঁই ) কিনতে এসেছি।
গত বাজার থেকে এবার আন্তার ( চাঁই ) দাম বেশি চাচ্ছে বিক্রেতারা। তাও এক জোড়া আন্তা ( চাঁই ) কিনেছি। রাতে আন্তা ( চাঁই ) পেতে পরে সকালে তুলে আনি। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কেজির মতো দেশী ছোট মাছ পাই। এতে পরিবারের চাহিদা মেটে। একই বাজারের আরেক ক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের বাড়ির অনেকেই আন্তা ( চাঁই ) পেতে মাছ ধরছে। তাই আমিও এই বাজারে এসেছি আন্তা ( চাঁই ) কিনতে। কয়েকটি আন্তার দোকান ঘুরে দেখেছি।
দাম কিছুটা বেশি। তাও একটি আন্তা ( চাঁই ) কিনবো ভাবছি।বাজারে চাঁই বিক্রি করতে আসা মফিজুল ইসলাম বলেন, গত বছর এ উপজেলায় বন্যা হয়েছিল। তখন আন্তা ( চাঁই ) বিক্রি বেশি হয়েছিল। এ বছরও অন্য সব বছরের তুলনায় আন্তার ( চাঁই ) বেচাকেনা আশানুরূপ ভালো। আজকে ৭০ টা আন্তা ( চাঁই) নিয়ে এসেছিলাম। সকাল থেকে এ পর্যন্ত ৪০টার মতো বিক্রি করতে পেরেছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এ উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রচুর চাঁই পাওয়া যায়। চাঁই তৈরির কারিগররাও এ সময় চাঁই তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ উপজেলা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকেও এই উপজেলার হাটগুলোতে অনেকেই চাঁই কিনতে আসেন। কেউ কেউ এসব চাঁই পেতে মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে মাছ বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।