শিরোনাম
◈ দেশের কারাগারে আটক ৩৬৩ জন বিদেশি নাগরিক, ভারতীয় ২১২ ◈ দেশের যেসব অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা ◈  সরকার থেকে বরাদ্দ করলে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানির প্রয়োজন নেই: সংসদে আলোচনা ◈ ঈদে যানজট এড়াতে ডিএমপির ২২ নির্দেশনা ◈ নেপিয়ার ঘাস খেয়ে মারা গেলো খামারের ২৬ গরু ◈ এমপি আনার হত্যা তদন্তে কোনো চাপ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ তারেক রহমানসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ সাধারণ নাগরিকের মতো করেই ড. ইউনূসের বিচার হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ◈ ড. ইউনূসের কথা অসত্য, জনগণের জন্য অপমানজনক: আইনমন্ত্রী ◈ সরকারের ব্যাংকঋণে বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ ব্যাহত হবে: সিপিডি

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৪, ০৫:৩৪ বিকাল
আপডেট : ২৫ মে, ২০২৪, ১১:১৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম: [২] চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার চার লেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে নির্মিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এখন দৃশ্যমান। এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট।

[৩] মহানগরী থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। সড়ক পথে অতিক্রম করতে সময় লাগে এক থেকে দুই ঘণ্টা। বন্দর ইপিজেড কেন্দ্রীক যানজটের কারণে কখনো কখনো এই দূরত্ব অতিক্রমে ৩ ঘণ্টাও সময় লেগে যায়। চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হলে বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাবে ২০ মিনিটের মধ্যেই।

[৪] ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে, ৫৪ ফুট প্রশস্ত এবং চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে ১৫টি র‌্যাম্প। এর মধ্যে জিইসি মোড়ে একটি, টাইগারপাসে দুটি, আগ্রাবাদে চারটি, ফকিরহাটে একটি, নিমতলায় দুটি, সিইপিজেডে দুটি, সিমেন্ট ক্রসিং মোড়ে একটি এবং কেইপিজেড এলাকায় দুটি র‌্যাম্প থাকবে। এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তায় থাকবে ২০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে আটটি দ্রুতগতির ক্যামেরা। টোল আদায়ের জন্য থাকবে ১৪টি বুথ। 

[৫] এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। তবে কবে নাগাত খুলে দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন এখনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি। শিগগিরই যানবাহন চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হবে। 

[৬] তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বৈদ্যুতিক পোল বসানোর কাজ চলছে তবে লাইটগুলো বিদেশে থেকে আসলে ফিটিংসের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে দ্রুতগতির ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। এখানে নির্ধারিত গতি সীমার কম-বেশি চালানো হলে ক্যামেরার সাহায্যে যানবাহনগুলোকে জরিমানার আওতায় আনবে পুলিশ।

[৭] শিগগিরই টোল আদায়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে। নিয়োগ দেওয়া হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখানে টোল নেওয়ার জন্য ১৪টি বুথ থাকবে। প্রাথমিকভাবে পতেঙ্গা প্রান্তে চারটি বুথ থাকবে। র‌্যাম্প নির্মাণের পর বাকি টোল বুথ বসানো হবে। এটি চালু ফলে যোগাযোগ খাতে আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কানেক্টিভিটি বাড়বে বন্দরনগরীকে ঘিরে।

[৮] চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, শিগগিরই এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট কমে যাবে। তবে দুইটি র‍্যাম্প ছাড়া বাকী র‍্যাম্পগুলোর কাজ এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ১৪ নভেম্বর এর উদ্বোধন করেন। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচল শুরু হয়নি। টোলের হার অনুমোদন দিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। 

[৯] সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে চলাচল করলে প্রাইভেটকার ১০০, জিপ ১০০, মাইক্রোবাস ১০০, মিনিবাস ২০০, বাস ৩০০, ট্রাক (চার চাকা) ২০০ টাকা করে টোল দিতে হবে। তবে উড়াল সড়কে চলবে না মোটরসাইকেল, ট্রাক (৬ চাকা) এবং কাভার্ডভ্যান।

[১০] চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। 

[১১] তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। দ্বিতীয় দফায় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

[১২] তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তৃতীয় দফায় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এই দফায় সময় বেড়েছে এক বছর। অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। একই সময়ে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে চার হাজার ৩৬৯ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ৮১৯ টাকা করা হয়। সিডিএর এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-র‍্যাংকিন।

প্রতিনিধি/একে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়