শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৪:৩৭ সকাল
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৭:২৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজধানীতে বেড়েছে ছিনতাই

৬৮ স্পটে বসছে সিসি ক্যামেরা

প্রতীকী ছবি

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীতে বাড়ছে ছিনতাই। রাতে বা প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করছে। গত ৪ মাসে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ঢাকায় নিহত হয়েছে ৪ জন। ঢাকার ৫০টি থানায় দায়ের হওয়া ছিনতাইয়ের মামলার পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হলেও এর সংখ্যা অনেক বেশি হবে। অনেকেই ভুক্তভোগী আইনি জটিলতা এড়াতে থানায় অভিযোগ দিতে যান না। আবার অনেকেই জিডি করে চলে যান। মানবজমিন 

বেপরোয়া ছিনতাইকারীদের ঠেকাতে পুলিশ নানামুখী উদ্যোগ নিলেও দিন দিন ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। ছিনতাইকারীদের ঠেকাতে রাজধানীর ছিনতাই স্পটগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো, টহল জোরদার করা, এলাকাওয়ারি ছিনতাইকারীদের তালিকা তৈরি করে সাঁড়াশি অভিযান চালানোসহ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ঢাকায় ছিনতাইকারীদের আগের মতো দৌরাত্ম্য নেই। যারা এই অপকর্ম করছে তাদের আনা হচ্ছে আইনের আওতায়। স্পটগুলোতে ছিনতাই ঠেকাতে ঢাকার বিভিন্নস্থানে ৬৮টি স্পটে বসছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। 

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) একেএম হাফিজ আক্তার রাসেল জানান, ‘ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য আগের চেয়ে কমে এসেছে।’ সরজমিন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত হলেই সক্রিয় হচ্ছে ছিনতাইকারীরা।

প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে ঘটছে ছিনতাই। পুলিশ অনেক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করলেও তারা জামিনে বের হয়ে আবার একই কর্মকাণ্ড করছে। গত ১১ই আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় ছিনতাইকারীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নিহত হয় টাইলস ব্যবসায়ী শরিফ। গত ২৯শে জুলাই পল্লবীর কালশির মোড়ে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন রিকশাচালক আব্দুল লতিফ হাওলাদার। 

১৮ই জুলাই রাতে হাজারীবাগের চেয়ারম্যান গলিতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন এক অজ্ঞাতনামা যুবক। এ ছাড়াও ১৭ই জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও তালতলার মোড়ে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে অটোরিকশাচালক মামুন হাওলাদার মারা যান। এ ছাড়াও ছিনতাইকারীদের আঘাতে আহতের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায়ই ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে যান ভুক্তভোগীরা। ছিনতাইকারীরা এখন নতুন কৌশল হিসেবে কাজ করছে যে, তারা ছিনতাইয়ের আগে গুঁড়ামরিচ ছিটিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। কাউকে কাউকে তারা কৌশলে চোখে স্প্রে মেরে টাকা, মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে। পুলিশ জানায়, যে সব এলাকাগুলোতে ছিনতাই হয়ে থাকে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হবে। ক্যামেরায় পাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে যাতে রাতের বেলায় ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করতে সুবিধা হয়। এ ছাড়াও স্পটের বামে ও ডানে  ক্যামেরা বসানো হবে। যাতে ছিনতাইকারীর চেহারা স্পষ্ট বোঝা যায়। 

সূত্র জানায়, যে সব স্পটে ক্যামেরা বসানো হবে সেই এলাকাগুলো হচ্ছে- উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টর মোড়, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর মোড়, দক্ষিণখান রেলগেট, উত্তরখান রেলগেট, তুরাগ ও ময়মনসিংহ রোডের মোড়, খিলগাঁও তালতলা মোড়, খিলগাঁও তিলপাপাড়া মোড়, মেরাদিয়ার মোড়, বাসাবো রেলক্রসিং, বাসাবো বাজার, শাহজাদপুর রেলগেট, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণির মোড়, ধানমণ্ডি সাত মসজিদ রোড, নিউ মার্কেট মোড়, নীলক্ষেত মোড়, আজিমপুর মোড়, লালবাগ কেল্লার সামনের সড়ক, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, লালমাটিয়া, শ্যামলীর মোড়, শ্যামলীর কলেজ গেট, মিরপুর ১ নম্বর রোড, মিরপুর ১০-এর গোল চত্বর,পল্লবীর ডি ব্লক, রূপনগরের মূল সড়ক, মহাখালী রেল সিগন্যাল, আমতলীর গলি, আমতলীর সড়ক, চেয়ারম্যান বাড়ি, বনানীর রেলক্রসিং, খিলক্ষেত মোড়, যাত্রাবাড়ীর গোল চত্বর, মাতুয়াইলের কাঠের পুল এলাকা, সাইনবোর্ডের মূল সড়ক, বিমানবন্দর গোল চত্বর, বাড্ডার প্রগতি সরণির মোড়, রামপুরা ব্রিজ, রামপুরা ইউলুপ, রামপুরা কাঠের দোকানের সামনে, বনশ্রী ডি ব্লক, আমুলিয়ার প্রধান সড়ক, আব্দুল্লাহপুরের মোড়, কামরাঙ্গীচরের মোড়, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন মোড়, পীর জঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর রেলস্টেশন সড়ক, মতিঝিল কালভার্ট রোড, বিজয়নগর, হাতিরঝিল, শাহবাগ, মগবাজারের গুলবাগ, গোলাপ শাহ মাজার ক্রসিং ও হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে লাগানো হবে ক্যামেরা। পুলিশ জানিয়েছে, এই সব ক্যামেরা দিয়ে ছিনতাইকারীদের দ্রুত শনাক্ত করা যাবে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়