শিরোনাম
◈ নানা পাটেকরের কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল? ময়নাতদন্তে যা জানা গেল ◈ রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা, যাত্রী টার্মিনালে আগুন; ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত ◈ গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করতে জীবিত গরু ও হালাল মাংস আমদানির দাবি ◈ সরকারিভাবে এখন থেকে পালিত হবে ৯২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস ◈ ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি যৌতুক নয়, হাইকোর্টে খালাস পেলেন দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী ◈ কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মেগা প্রকল্প নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি হোক পারস্পরিক মর্যাদা ও জনস্বার্থ: রিয়াজ হামিদুল্লাহ ◈ সোবহানার সেঞ্চুরি কা‌জে আস‌লো না, বাংলাদেশ নারী দল‌কে বড় ব‌্যবধা‌নে হা‌রি‌য়ে সি‌রিজ জিত‌লো অ‌স্ট্রেলিয়া ◈ ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি রেকর্ড ২১৯৩ জন ◈ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাংচুর: ১ কোটি টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করা হয়, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০১ রাত
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাকার যানজট কমাতে এবার রাস্তায় বাস মালিক-শ্রমিকরা, ২০ পয়েন্টে তৎপরতা

ঢাকাবাসীর সকাল হয় গাড়ির হর্নে। আর সন্ধ্যা নামে ব্রেক লাইটের লাল আভায়। এই শহরে মানুষ এখন আর পথ চলে না, পথই মানুষকে টেনে নিয়ে চলে— ধীরে, ক্লান্ত ভঙ্গিতে। রাজধানীর প্রধান সড়কের জ্যামে মনে হয় একটা ছোট উপন্যাস পড়ে ফেলা যাবে, বাসে উঠলে একটা ঘুম। ঢাকা এগোতে চায়, কিন্তু পারে না জ্যামের কারণে। তাই জ্যাম কমাতে এবার রাস্তায় নেমে গেছেন খোদ বাস মালিক- শ্রমিকরা।  

বিশ্বব্যাংকের এক পুরনো হিসাবে বলা হয়েছিল, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় শুধু জ্যামে। এখন সেই সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। বছরে ক্ষতি প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি; যা দিয়ে আরেকটা মেট্রোরেল বানানো যায়।

ঢাকার জ্যাম নিয়ন্ত্রণে অনেক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও কাজে আসেনি কোনটি। যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা , নির্ধারিত জায়গা ছাড়া বাস থামানো বন্ধ করতে এবার রাস্তায় নেমেছেন বাস মালিক সমিতি। ঢাকার ২০টি পয়েন্টে মালিক শ্রমিকের সমন্বয়ে করা হয়েছে টিম। তারা এখন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করছেন।

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে কমলা রঙের ভেস্ট পরে বেশ কয়েকজন দেখা গেলো লাঠি হাতে বাস চালকদের সিগন্যাল দিচ্ছেন। তাদের ভেস্টের পেছনে লেখা ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে নিজেকে একজন বাস মালিক পরিচয় দিয়ে বললেন, আমাদের ড্রাইভার–হেল্পার কথা শোনে না। শতবার বলা হয়েছে, যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী না তুলতে। তাই আমরা মালিকরা এটা নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় নেমেছি। ঢাকার অনেক পয়েন্টে গেলে দেখবেন, সব বাস মালিক শ্রমিক আজকে রাস্তায়।

Advertisement

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ থেকে শুরু হয়েছে এই অভিযান। ঢাকার মিরপুর, ইসিবি চত্বর, কাওরানবাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিল ছাড়াও গুলিস্তান যাত্রাবাড়ী এলাকায়ও তাদের তৎপরতা দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, সমিতির নেতারা বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন।

আজ সকালে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নির্দেশনায় গ্লাস ভাঙা রং নষ্ট ফিটনেসবিহীন পরিবহন মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন গুলিস্তান বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সদস্য সচিব আলমগীর কবির।

এছাড়া ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নির্দেশনায় যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খলা আনয়নে কালসি মোড় পরিদর্শন করেন মিরপুর আঞ্চলিক মালিক সমিতির আহ্বায়ক এস এম সোহরাব হোসেন।  

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাস রুট রেশনালাইজেশনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এই পরিকল্পনা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বাস মালিক সমিতিকে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি বাস কোম্পানিগুলোর মালিক ও সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা এবং ফিটনেস ও আইন মানার বিষয়ে অপারেটরদের দায়িত্বের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

বাস মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সাতটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক নম্বর হলো, ঢাকা মহানগরীতে কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালিত হবে। সরকার কোনও ব্যক্তি বা একক মালিকের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা বা লেনদেন করবে না; বরং সরাসরি কোম্পানির সঙ্গে জবাবদিহিতা স্থাপন করবে।

দুই, বাসের ফিটনেস না থাকা, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা বা আইন অমান্য করাসহ সব অনিয়মের দায়ভার সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বহন করবে। আইন ভঙ্গ করলে সেই মালিককে কোম্পানি থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং তার বাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিন, বাস কাউন্টারে অতিরিক্ত বুকিং বা ট্রিপভিত্তিক চাঁদা বা যেকোনও ধরনের অনৈতিক অর্থ আদায় বন্ধে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাসসেবা ও চালকদের আচরণের দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলে এবং কাঙ্ক্ষিত সেবার মান অর্জিত না হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির রুট পারমিট বাতিল করে সরকারি উদ্যোগে নতুন কোম্পানি বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চার, বাস মালিকরা আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে চলাচলকারী সব বাসের মেরামত ও ডেন্টিং পেন্টিং সম্পন্ন করবে। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবে। যাদের বাস মেরামত করা সম্পন্ন হবে না, তাদের বাস বন্ধ থাকবে।

পাঁচ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি রোড বা এলাকাভিত্তিক টিম গঠন করে অবৈধ জীর্ণ রোড ভায়োলেশনকারী ও পারমিটবিহীন বাস পরিচালনা হতে নিবৃত করবে।

ছয়, পরিবহন সমিতি সব বাস কাউন্টারভিত্তিক চলাচলের উদ্যোগ ও বাস স্টপেজে থামিয়ে যাত্রী উঠানামা নিশ্চিত করবে।

সাত, বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো একত্রে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকদের সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে সভা বা আলোচনা করবেন।  

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এ এস এম আহাম্মেদ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা আমাদের বাস নিয়ন্ত্রণ করবো। তার কারণ, অনেকদিন ধরে এটা অভিযোগ করা হচ্ছে যে, রাস্তাঘাটে আমাদের গাড়িগুলো স্টপেজে দাঁড়ায় না। আমাদের চালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি বারবার, তোমরা কোনও অবস্থাতে স্টপেজ ছাড়া গাড়ি দাড় করাবা না এবং যাত্রীদেরও সচেতন করছি, আপনারা স্টপেজে যান, গাড়ি স্টপেজে দাঁড়াবে, আপনারা যত্র যত্র উঠবেন না, নামবেন না।

তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রমটা আমরা এখন ঢাকা শহরের প্রায় ২০টি পয়েন্টে শুরু করছি। দেখা যাক কতদিন চালানো যায়। যতদিন শৃঙ্খলায় না আনতে পারবো, ততদিন এই প্রচেষ্টা চলবে। আমি নিজেই শাহবাগ মোড়ে সকাল আট থেকে আছি। বাস মালিক-শ্রমিক সবাই এ কাজে নিয়োজিত।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

  • সর্বশেষ