মোঃরফিকুল ইসলাম মিঠু, ঢাকা: রাজধানী ঢাকার উত্তরা উত্তরখান দক্ষিন খান ও তুরাগ এলাকায় মশার উপদ্রব চরমে। ঔষধ প্রয়োগে অনিয়ম। রাজধানীর ১৯৬ দশমিক ২২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ড।
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে মশা নিধনে প্রায় ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এর মধ্যে মশা নিধনে কীটনাশক কিনতে রাখা হয় ৬৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থ ফগার, হুইল, স্প্রে মেশিন ও পরিবহন, ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক এবং মশা নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি কিনতে বরাদ্দ রাখা হয়। এ টাকা দিয়ে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিএনসিসির মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটির স্বাস্থ্য বিভাগ। এই বিভাগ সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত মশক নিধন কার্যক্রম ঠিকমতোই চলছিল। কারণ, ওই সময় সংস্থাটির মেয়র আতিকুল ইসলামের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো ছিল। তাকে মেয়র পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকে ডিএনসিসির মশক নিধন কার্যক্রম ভেঙে পড়ে। এখন যারা মশার ওষুধ ছিটান, তাদের তেমন কোনো জবাবদিহি নেই। ফলে ডেঙ্গুর পর কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
আগে মশা নিধনে জনসচেতনতা তৈরিতে ডিএনসিসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও জাতীয় স্কাউট দল। মূলত তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম ও জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজ করেছে। এছাড়া যেসব ভবনে এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছিল তাদের জরিমানাও করছিলেন ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিত্যক্ত পণ্য কেনার একটি প্রকল্পও চলমান ছিল। এখন কোনো কর্মসূচিই নেই।
মশারী ছাড়া দিনের বেলায় ঘরে ও অফিসে বশা মুশকিল। নিম্নমানের ঔষধ সামগ্রী ব্যাবহার ও ধুঁয়া মানবদেহের জন্য কতটা ক্ষতিকারক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাই ভালো জানেন। এই সকল এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি অনতি বিলম্বে মশা নিধন না করা গেলে মশা বাহিত রোগের পাদুর্ভাব বেড়ে যাবে।