শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী, ২০২২, ০৩:০৯ দুপুর
আপডেট : ২৮ জানুয়ারী, ২০২২, ০৩:২৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীপক চৌধুরী : ইসি অনুগত, ভিসি অনুগত বলে মাঠ গরম রাখা যায় কিন্তু কিছু কী অর্জন করা যায়?

দীপক চৌধুরী: ইসি অনুগত, ভিসি অনুগত বলে প্রচারকার্যে মাঠ গরম করা যায় কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যায় না। জনপ্রিয়তাও পাওয়া যায় না। আমরা জানি, গণতন্ত্রে বিরোধিতা করার সুযোগ আছে। এর সুব্যবহার না করে কুব্যবহার করা হলে মানুষের উপকার হয় না। বৃহস্পতিবার ইসি গঠন বিল সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। বিএনপিও তাতে সংশোধনী দিয়েছে। জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দল। তারাও সমর্থন করেছে এ বিল। আসলে সিইসি যে কথাটি বলেছেন এটাই সত্য। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা মন্তব্য করেছেন, ‘ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু সম্ভব।’ তিনি এ কারণেই বলে থাকতে পারেন যে, ইচ্ছা করা হলেই এখন আর স্বেচ্চাচারিতা সম্ভব নয়। আগে নির্বাচন কমিশন ছিল ‘নামে মাত্র।’ বাংলাদেশের জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। জিয়াউর রহমান ‘হাঁ-না’ ভোট করে দেশে প্রথম ইসি নষ্ট করেন। এরপর দীর্ঘদিন কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল সেই পুরানো কাসুন্দি না ঘেঁটেও বলা যায়, সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কেউ যেনো সম্প্রতি বলেছেন যে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যদি ‘সিইসি’ বানানো হয় তাহলেও দলটি ইসি মেনে নেবে না। সম্ভবত এটাই কারণ যে, জনগণের ভোটে বিএনপি নির্বাচিত হয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। দলটির জনপ্রিয়তা এতোটাই শূন্যের কোঠায় নেমেছে। মানুষ বুঝে গেছে অপপ্রচার করে কোনো কাজ হয় না। দলটি ক্ষমতায় থাকতে দেড়শ’ ছাত্রদল নেতাকে নির্বাচন কর্মকর্তা বানিয়েছিল। শোয়া কোটি ভুয়া ভোটার ছিল তাদের মূল শক্তি। তাদের সময়ই ছিল অনুগত ইসি।

করোনা পরিস্থিতিতে বিএনপি ‘ঘরোয়া’ কর্মসূচি দিয়েছে। এর আগে দলটির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেছিলেন, করোনার পর সরকারবিরোধী আন্দোলন করবেন। অবশ্য বিএনপি সবসময়ই জনগণের সঙ্গে ‘মশকরা’ করে আসছে। আগে তারা বলতো রোজার পর সরকার পতনের আন্দোলন। কখনো কখনো বলতো, ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলনে পালাবার পথ পাবে না তারা (আওয়ামী লীগ নেতারা)। একযুগ ধরেই শুনে আসছি এসব কথা। আন্দোলনের জন্য বিএনপির সেই ঈদও আসে না, রোজাও আসে না। দলটির কর্মসূচি- কৌশল নামে ‘মশকরা’ ছাড়া আর কিছু? সুতরাং মানুষের যা বোঝা দরকার তা হয়ে গেছে। যারা পদ্মা সেতু নিয়ে, মেট্রোরেল নিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলেছিল তারা কারা- তাও জানা হয়ে গেছে। ‘দেশকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে’ মন্তব্য করে ওই অর্থ কোথা থেকে এসেছে- তা জানতে চেয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘কত লাখ ডলার এই বিএনপি খরচ করেছে। এই অর্থ কোথা থেকে তারা পেল? এটা তো বৈদেশিক মুদ্রা। বিএনপি এই বৈদেশিক মুদ্রা কোথা থেকে পেয়েছে? কীভাবে খরচ করেছে? কীভাবে এই লবিস্ট তারা রেখেছে? লবিস্ট কীসের জন্য? বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা এবং ১৬তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। সংসদে দেশরত্ন শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য, নির্বাচন বানচাল করার জন্য, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। জঙ্গিদের রক্ষা করার জন্য। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে বাধা দেওয়ার জন্য। কোনো ভালো কাজের জন্য তো এ কাজ করেনি তারা।’

দেশবাসী জানে- জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ কার সৃষ্টি? বিএনপির সৃষ্টি জঙ্গিবাদ। যুক্তরাষ্ট্র যখন বাংলাদেশের র‌্যাব’-এর সাত কর্মকতার ব্যাপারে স্যাংশন দিল তখন কয়েকদিন বিএনপির নেতাদের মুখে খৈ ফুটেছে। যাদের তারা (যুক্তরাষ্ট্র) স্যাংশন দিল, তাদের অধিকাংশ এই সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রেখেছিল। সারাদুনিয়া জানে যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার মারাত্মক বিপর্যয়ে। এই যখন অবস্থা তখন তারা কীভাবে আমাদের দেশের মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে? এক তথ্যে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক লোক নিখোঁজ হয়। সেখানকার একটি রাজ্য কলম্বিয়ার অবস্থা ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্রে নাকি শতকরা ত্রিশ ভাগ নারী নির্যাতন মামলার আসামি খালাস পায়। খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের চিত্র সেখানে ভয়াবহ।

এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, শাবিপ্রবির উপাচার্যের পদত্যাগ প্রসঙ্গ। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনশন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হকের অনুরোধে অনশন ভেঙেছেন ২৮ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার ঘটনাটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। এখন প্রশ্ন হলো, শিক্ষার্থীরা তো অনশন ভাঙলেন, তাদের দাবি-দাওয়ার কী হবে?

বুধবার সকালে শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙিয়েছেন এই শিক্ষক দম্পতি। প্রকৃতপক্ষে, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া হবে-সরকারের ওপর মহলের এমন আশ্বাসের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানো হয়। তবে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অন্যান্য কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেছেন, তাঁকে সরকারের উচ্চ মহল কথা দিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া হবে। মানে উপাচার্যের পদত্যাগ? কিন্তু অধ্যাপক ইকবালের কথা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপুমনির সাম্প্রতিক কথায় তো এর মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পদত্যাগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারভুক্ত। আরো লক্ষ্যণীয় বিষয়, বাইরে থেকে যারা এটি চাঙ্গা রাখতে চান তাদের উদ্দেশ্যও জানা দরকার। খতিয়ে দেখা জরুরি যে, স্থিতিশীলতাকে অস্থিতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্য কী। গণতান্ত্রিক সকল আন্দোলনই সমর্থনযোগ্য। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর আন্দেলনকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে কারো কী কোনো উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে! শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন, তা এতদূর গড়ানোর কথা ছিল না। দেশের সব প্রগতিশীল মানুষের সঙ্গেই কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করছে কিনা দেখা দরকার। আমাদের প্রত্যাশা এই যে, দ্রুত যেনো বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ অবস্থা ফিরে আসে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ফিরে আসতে পারে।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়