প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শেরপুরের শ্রীবরদীর সেই বিতর্কিত চেয়ারম্যান হালিম এবারো পেলো নৌকা

তপু সরকার হারুন: [২] সোমবার রাতে শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নে তাকেসহ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

[৩] অথচ তার বিরুদ্ধে রয়েছে জালভোট ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত এবং এলাকার এক চাঞ্চল্যকর গুম-খুনের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ। কেবল তাই নয়, জালভোটের দায়ে তার চেয়ারম্যানের ফলাফল ও গেজেট বাতিল এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের দায়ে তিনি একাধিকবার বরখাস্ত হলেও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

[৪] অন্যদিকে এতকিছুর পরও তৃণমূলের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এবারও তাকেই নৌকার মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীসহ জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ¯’ানীয় সূত্রমতে, আব্দুল হালিম ছাড়াও ¯’ানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.ফরিদুজ্জামান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকও এবার দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

[৫] নির্বাচনের প্রথমভাগ থেকেই তারা মাঠে যেমন তৎপর রয়েছেন, তেমনি রয়েছে তাদের ক্লিনইমেজসহ জনসমর্থন। তবে ¯’ানীয়ভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর প্রত্যাহারের সাক্ষর নেওয়ায় যোগ্য অনেকেই কেনেননি মনোনয়ন ফরম।

[৬] জানা যায়, স্বল্প শিক্ষিত পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হালিম জীবনের শুরু থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও সেই নির্বাচনের কিছুদিন আগে তিনি শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটনের আশীর্বাদে দলে ভিড়ে প্রথমত বাগিয়ে নেন দলের শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। এরপর একইভাবে তৃণমূল থেকে বাগিয়ে নেন নৌকার মনোনয়ন।

[৭] অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সনের ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তার অব¯’া অনুকূলে না থাকলেও তিনি নিজ এলাকার শ্রীবরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সন্ত্রাসী কায়দায় মৃত ও অনুপ¯ি’ত ভোটারদের জাল ভোটসহ ৯৮ ভাগ ভোট গ্রহণ দেখিয়ে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে ফলাফল হাসিল করে নেন। ওই অভিযোগের নির্বাচনী মামলায় ওই কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচনের আদেশ হলেও সেই রায় ও প্রজ্ঞাপনের আলোকে কার্যকারিতা শুরুর আগেই তা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে উ”চ আদালতে রিটমূলে। এছাড়া ইউনিয়নের ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের ১১ লাখ ৯২ হাজার ৫৯৭ টাকা আত্মসাতের দায়ে ২০১৮ সালের ২৮ জুন ¯’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে তাকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই বরখাস্তের বিষয়েও তিনি আশ্রয় নেন উ”চ আদালতের। তাছাড়া একই অর্থবছরে ৯ জন ভিক্ষুকের জন্য শৌচাগার নির্মাণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয় অভিযোগ। কিš‘ ক্ষমতার প্রভাব বলয়ে সেটা আর কোন আলোর মুখ দেখেনি।

[৮] এদিকে শেষ মেয়াদে এসে তিনি জড়িয়েছেন এলাকার এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে। শ্রীবরদীর সোহেল মিয়া ওরফে বাবু (৩২) হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আলামিন নামে এক আসামি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রকাশ করেছেন যে, হালিম চেয়ারম্যান ও আইয়ুব আলী মেম্বারের নির্দেশে ঘটনার রাতে বাবুকে ডেকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার উপ¯ি’তিতেই তাকে হত্যা করা হয়। পরে চেয়ারম্যানের নির্দেশে লাশটি ৩ দিন ঘরের ভেতরে রাখার পর পাশের ডোবায় কচুরিপানার নিচে রেখে আসা হয়। কিš‘ ওই লোমহর্ষক জবানবন্দির পরও এখনও গ্রেফতার হয়নি চেয়ারম্যান হালিম।

[৯] অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম জানান, আমার সাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের সাথে ইউপি সচিব জড়িত ছিল, সেটি আমি করিনি। আর যে কেন্দ্র ¯’গিত ছিল, সেটিতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। সেটি আমার বাড়ির কেন্দ্র। এবারও জনগণ আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি মহল হিংসার বশবর্তী হয়ে হত্যা মামলার আসামিদের মাধ্যমে জবানবন্দিতে তার নাম জড়িত করার চেষ্টা করেছে। ওই হত্যায় কে বা কারা জড়িত আমি জানি না।

[১০] এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন জানান, তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছে, তবে অভিযোগ প্রমাণের আগে তো আমরা ব্যব¯’া নিতে পারি না। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর আগাম প্রত্যাহারপত্রে সাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এখানে দলের যেকেউ মনোনয়ন চাইতে পারেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত