প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাইকোর্টে ন্যায়বিচার চাইলেন ভারতীয় মা

নিউজ ডেস্ক: তিন বছরের শিশু সন্তানকে কাছে পেতে হাইকোর্টের এজলাস কক্ষে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন ভারতীয় মা সাদিকা সাঈদ। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। রিট মামলার শুনানির একপর্যায়ে সাদিকা সাঈদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম আদালতকে বলেন, শিশুর মা আপনাদের সামনে কিছু কথা বলতে চান। আদালত তাকে কথা বলার অনুমতি দেন। তখন এজলাস কক্ষের ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে সাদিকা সাঈদ বলেন, আমার সাবেক স্বামী সানিউর টিআইএম নবী আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের মাধ্যমে আমি আমার সন্তান ফিরে পেতে চাই। এ ক্ষেত্রে আমি শিশুর বাবার সঙ্গে সন্তানের জিম্মা ভাগাভাগি করতেও রাজি আছি। এ সময় আদালত ভারতীয় নাগরিক সাদিকা সাঈদকে ধন্যবাদ জানান। যুগান্তর

শুনানি শেষে ভারতীয় নাগরিক সাদিকা সাঈদ ও বাংলাদেশি নাগরিক সানিউর টিআইএম নবীর তিন বছরের শিশুকে নিয়ে বাবার দেশত্যাগের ঘটনায় শিশুর দাদা টিম নবীকে তলব করেন হাইকোর্ট। আগামী ৭ ডিসেম্বর তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে। শিশুর দাদা যেন দেশত্যাগ না করতে পারেন, এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ফেসবুকে উচ্চ আদালত নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার ঘটনায় তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া আদালতের আদেশ অমান্য করে শিশুকে নিয়ে দেশত্যাগ করায় বাবা সানিউর টিআইএম নবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের কার্যকারিতা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে ২২ নভেম্বর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সানিউর টিআইএম নবী তার তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন। ১৬ নভেম্বর শিশু সন্তানকে নিয়ে তার বাবা বাংলাদেশি নাগরিক সানিউর টিআইএম নবীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে এ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। শিশুর মা ভারতীয় নাগরিক সাদিকা সাঈদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট দুই মাসের জন্য ওই শিশুকে সাদিকা সাঈদের হেফাজতে রাখতে আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ফ্লাড) ব্যবস্থাপনায় থাকবে ওই মা ও শিশু। তবে বাংলাদেশি বাবা সপ্তাহে তিন দিন সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত শিশুর সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। এই দুই মাস সাদিকা সাঈদের পাসপোর্ট গুলশান থানায় জমা রাখতে বলা হয়।

তবে হাইকোর্টের আদেশের পর শিশুর বাবা তার সন্তানকে উন্নত পরিবেশে গুলশান রাখার ইচ্ছার কথা জানান। শিশুর মঙ্গলের কথা চিন্তা করে শিশুর মা রাজি হন। এরপর থেকে গুলশান ক্লাবেই শিশুর মাসহ তারা অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে বেড়ানোর কথা বলে গুলশান ক্লাব থেকে শিশুকে নিয়ে যান তার বাবা। এরপর আর শিশুকে গুলশান ক্লাবে মায়ের কাছে দিয়ে যাননি তিনি। এরমধ্যে শিশুর মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে ১৫ নভেম্বর শিশুটিকে হাজির করতে আইনজীবীকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু শিশুর বাবা আইনজীবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। এ কারণে আইনজীবী থেকে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

২০১৭ সালে হায়দরাবাদে সাদিকা সাঈদ শেখ ও নবীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বসবাস শুরু করেন তারা। কয়েক মাস পর ঢাকায় চলে আসেন। এরমধ্যে ২০১৮ সালে এই দম্পতির পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। মেয়েটির বোন মানবাধিকার সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ফ্লাড) কাছে আইনি সহায়তা চান।

এরপর গত ৮ আগস্ট সাদিকা শেখ ও তার শিশু সন্তানসহ আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন ফ্লাডের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষক লুলান চৌধুরী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত