প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঠাকুরগাঁওয়ে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

মো: রেদওয়ানুল : শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তত করে রস আহরণ শুরু করেছেন। রস আহরণের জন্য প্রথমে হাতে দা ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে নিপুণ হাতে গাছ চাছা-ছেলা করেন। পরে ছেলা স্থানে বাঁশের কঞ্চির নল বসানো হয়। সেই নল বেয়ে নেমে আসে সুস্বাদু খেজুর রস। যশোর ও রাজশাহী থেকে গাছিরা ঠাকুরগাঁওয়ে এসে খেজুর বাগান লিজ নিয়ে রস সংগ্রহ করে গুড় ও পাটালি তৈরি করে থাকেন।

পাখীডাকা ভোর থেকে সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তারা। দুপুর পর্যন্ত রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। কেউ কউ আবার গুড় থেকে পাটালি তৈরি করে বিক্রির জন্য। আবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা অব্দি রস সংগ্রহের জন্য গাছে গাছে কলস বাঁধে। এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা।

ঠাকুরগাঁও সুগারমিলস’র উদ্যোগে সদর উপজেলার নারগুনে ৬০০টি ছোটো বড় খেজুরের গাছ নিয়ে গড়ে ওঠে একটি বাগান। গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ করে ভাইরাল হয়ে যায় বাগানটি। এর পর থেকে রস ও গুড় সংগ্রহে প্রতিদিন সকালে শহরের বাসিন্দারা ভিড় জমাতে থাকেন ওই বাগানে।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বরচুনা গ্রামে বেশ কয়জনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে আরেকটি খেজুরের বাগান। দু’ বছর ধরে তারা বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের রস থেকে গুড় উৎপাদন শুরু করেছে। প্রত্যন্ত গ্রামটিতে গড়ে ওঠা বাগানটি এখন সেই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূমিকা রাখছে বলে জানান এলাকাবাসী।

রাজশাহী থেকে আসা এক গাছি জানান, শীতের চার মাস ৬ শতাধিক খেজুর গাছ ৩৫ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ কেজি গুড় উৎপাদন করছেন। আর পাইকারিতে প্রতি কেজি গুড় বিক্রি করেন ১৮০ ও খুচরা ২০০ টাকা কেজি। খেজুরের রশ ৩০০ টাকা হাড়ি ও ১০ টাকা গ্লাস বিক্রী করছেন তারা। আবার অনেকে রস কিনে নিয়ে ফেরি করে বিক্রি করেন। গাছিদের মতে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০টি গাছের রস থেকে তৈরি হয় ৪০ কেজি গুড়। শীত বেশি পড়লে রস উৎপাদন হবে দ্বিগুণ।

গাছিরা জানান, খেজুরের রস পেতে হলে বেশ কিছু কাজ করতে হয়। গাছের উপরিভাগের নরম অংশকে কেটে সেখানে বসিয়ে দেয়া হয় বাঁশের তৈরি নালা। আবার পাখিরা যাতে রস না খেতে পারে আর কোন জীবাণু না ছড়াতে পারে, সেজন্য আবার জাল বিছাতে হয়। গাছের কাটা অংশ থেকে চুইয়ে-চুইয়ে রস এনে নল দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় জমা হয় মাটির কলসিতে। একবার গাছ কাটার পর ২-৩ দিন রস পাওয়া যায়। রসের জন্য গাছ একবার কাটার পর ৫-৬ দিন বিশ্রাম দেয়া হয়। রোদে কাটা অংশ শুকিয়ে গেলে আবার ওই অংশ চেছে রস সংগ্রহ করা হয়। আর এ কারণেই সাধারণত খেজুর গাছ পূর্ব ও পশ্চিম দিকে কাটা হয়, যাতে সূর্যের আলো সরাসরি ওই কাটা অংশে পড়ে।

পীরগঞ্জ বৈচুনা গ্রামের গাছি আজিজুল জানান, গাছ থেকে রস সংগ্রহের সময় মৌমাছির কামড় সইতে হয়। রস বিক্রির টাকা যখন ঘরে তুলি তখন মৌমাছির কামড়ের কথা ভুলে যাই।

নতুন করে কেউ খেজুরের বাগান করতে চাইলে বা খেজুরের গাছ রোপণে যে কোনো সহযোগিতায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু হোসেন। তিনি বলেন, এ জেলায় খেজুরের গাছ রোপণের ক্ষেত্রে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায় না। সবাই আম, কাঁঠাল আর লিচু নিয়েই ব্যস্ত। সব গাছেরই প্রয়োজন আছে। তিনি খেজুর বাগান উদ্যোক্তাদের স্বাগত জানান।

সর্বাধিক পঠিত