প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাইকগাছায় অপহৃত কলেজছাত্রের লাশ কপোতাক্ষ নদ থেকে উদ্ধার

হ্যাপি আক্তার, শেখ সেকেন্দার: [২] খুলনায় পাইকগাছা প্রেমিকার দাবি মেটাতে অপহরণ অতঃপর হত্যার ৩ দিন পর আমিনুলের মরদেহ কপোতাক্ষ নদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

[৩] বুধবার (১০ নভেম্বর) সকালে কপোতাক্ষ নদের আগড়ঘাটা থেকে তল্লাশী চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় শত শত মানুষ আমিনুরর লাশ পাওয়ার খবরে ভীড় করে।

[৪] এর আগে খুলনার পাইকগাছায় আমিনুল ইসলাম (২১) কে হত্যার করার পর অপহরণকারী নিহত কলেজ ছাত্রের পিতার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। লোমহর্ষকর এ ঘটনার ১৭ ঘন্টার মধ্যে সোমবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে পুলিশ আসামি ফয়সাল সরদারকে (২২) গ্রেপ্তার করে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে হত্যাকারী ফয়সাল।

[৫] এ ঘটনায় পাইকগাছায় মুক্তিপণের দাবিতে কলেজ ছাত্র আমিনুর রহমান (২০) কে অপহরণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (০৯ নভেম্বর) নিহতের পিতা সুরমান গাজী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, খুনী ফয়সালের ফাঁসির দাবিতে পরিবারের পাশাপাশি এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।

[৬] সূত্রে জানা গেছে, আটক হত্যাকারী ফয়সালের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাকে নিয়ে লাশ উদ্ধারে সোমবারের ন্যায় আজ মঙ্গলবারও পুলিশ ঘটনাস্থল অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, আজ নিহতের পিতা বাদী হয়ে ঘাতক ফয়সালকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘাতক নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে।

[৭] প্রসঙ্গত, গত ৭ নভেম্বর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের ছুরমান গাজীর ছেলে ও কপিলমুনি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আমিনুর রহমান (২০) কে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী গদাইপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২২)। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে রেখে আমিনুরের ব্যবহৃত ফোন দিয়ে ঐদিন রাত ১০ টার দিকে তার পিতা ছুরমান গাজীর কাছে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারী। এসময় মুক্তিপণের টাকা পাইকগাছা ব্রীজের নিচে রাখতে বলা হয়। এরপর অপহৃত আমিনুরের পিতা ছুরমান গাজী তার কথামত দাবির কিছু টাকা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দূর থেকে লোক দিয়ে নিরীক্ষণ করেন। পরে ফয়সালকে টাকা নিয়ে ফেরার সময় আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়।

[৮] ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, ফয়সালের মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে তাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে তাকে কোমল পানীয়ের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করে দাসহ তার লাশ কপোতাক্ষ নদীতে ফেলে দেয় বলে জানায়।

[৯] পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটক ফয়সাল জানায়, তার প্রেমিকার মোটরসাইকেল কেনার আব্দার রক্ষা করতে সে আমিনুরকে অপহরণ করে তার পিতার কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। তবে মুক্তিপণ নেওয়ার আগেই তাকে হত্যার ঘটনায় বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত