শিরোনাম
◈ রাজধানীতে মিরপুরে আতশবাজির ফুলকি থেকে ভবনে আগুন ◈ শোকের মাঝেও উৎসব: রাজধানীতে আতশবাজি–ফানুসে নববর্ষ বরণ ◈ যখন শেখ হাসিনার মুক্তি চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া ◈ শুরু হলো ইংরেজি নতুন বর্ষ ২০২৬ ◈ নববর্ষের অঙ্গীকার হবে—অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন: তারেক রহমান ◈ খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারেক রহমানকে মোদির শোকবার্তা, যা লেখা আছে এতে ◈ বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারসহ ১৭ কমিশনার বদলি ◈ বেগম খালেদা জিয়ার কফিন বহন করলেন তিন আলেম: আজহারী, আহমাদুল্লা ও মামুনুল হক ◈ বেগম খালেদা জিয়া: ক্ষমতা ও প্রতিরোধের জীবন ◈ রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকার: ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠকের কথা জানালেন জামায়াত আমীর

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২১, ০১:৫৮ রাত
আপডেট : ১০ নভেম্বর, ২০২১, ০২:০১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মঈন চৌধুরী: আমার চোখের জল ফেরত দিন

মঈন চৌধুরী
বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরছিলাম। বাংলাদেশের ওপর বিমান পৌঁছানোর পর সারাক্ষণ জানালা দিয়ে বাংলাদেশের নদি আর সবুজ দেখতে দেখতে ভাবপ্রবণ হয়ে যাচ্ছিলাম বারবার। কেমন যেন একধরনের ভালোবাসার বাষ্প এসে গলার কাছে আটকে ছিলো, মনে হচ্ছিলো কাঁদতে পারলে শান্তি পাবো খুব। বিমান যখন একটু নিচে নেমে এলো, আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম বাংলার মাটি, বাংলার জল আর বাংলার মানুষ, তখন আমার ইমোশন তুঙ্গে, চোখ ভিজে যাচ্ছিলো, অনেক কষ্টে থামিয়ে রাখছিলাম লবন জলের প্রবাহকে। কিন্তু বিমানের চাকা যখন ঢাকার রানওয়ের খুব কাছাকাছি, তখন আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না, চোখের জলের ভালোবাসা দিয়ে নিজেকে ভিজিয়ে, ভিজিয়ে দিলাম আমার দেশকে। আমার পাশে বসা এক বিদেশি ভদ্রলোক আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলো Anything bad waiting for you? বললাম Not at all, IÕm happy to land in my country. Thank you। ভদ্রলোক আর কথা বাড়ালেন না। যে ঘটনা বলা হলো, তার পরেও বিয়াল্লিশ বছর কেটে গেছে। আমার প্রাণের বাংলাদেশে কিন্তু এখনও দুঃখ আর কষ্টের শেষ নেই। আমাদের দুঃখকষ্টের জন্য সাইক্লোন আসে, টর্নেডো আসে, লঞ্চ ডুবে যায়, আগুনে শ্রমিক পুড়ে, ব্রিজের গার্ডার ভাঙে, ধাক্কায় বিল্ডিং ধ্বসে শ্রমিকরা মরে, হরতালে মানুষ মরে, মানুষ খুন হয়, আরও কতো কিছু হয়। আমাদের যথাসময় দুঃখকষ্ট দিতে সৃষ্টিকর্তা, সরকার, আমলা, রাজনীতিবিদ, মালিক শ্রেণি, চোর, বাটপার ও মাস্তানরা সবসময় প্রচন্ডভাবে ক্রিয়াশীল। আমার দেশের দুঃখ আর কষ্ট দেখে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও আমাকে মন খারাপ করতে হয়।

গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের কিছু উন্নতি হয়নি, এমন কিন্তু নয়। তবে যে উন্নতি হতে পারতো তার অর্ধেক হয়েছে বলে ধারণা করা যেতে পারে। উন্নয়নের বাকি টাকা আমাদের রাজনিতিবিদ, রাজনীতিবিদদের চামচা, আসাধু ব্যবসায়ী আর মাস্তানরা লুটপাট করে নিয়েছে। এর জন্য আমি কোনো এক একক দলকে দোষ দেবো না, ক্ষমতায় ছিলো এমন সবকটি দলই এই লুটপাটের জন্য দায়ী। আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো, গত পঞ্চাশ বছরে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক শক্তি হয়ে নিজেদের প্রকাশ করতে পারেনি। তারা এখনও হরতাল, মাস্তানি, খুন, গুম, সন্ত্রাসী মিছিল, ভোট কেনাবেচা আর ‘যতো দোষ নন্দঘোষ’ এবং ‘সব মানি, তালগাছ আমার’ জাতীয় নীতিতে বিশ্বাস করে ভোটের রাজনীতি করে ক্ষমতায় যেতে চায়। প্রতিবার নির্বাচনের আগে ও হরতাল, মিটিং আর মিছিলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হত্যার রাজনীতি, আমি যার অবসান চাই।

অনেক স্বপ্ন নিয়ে যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছি, সে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে। ইদানিং আগামি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আবার রক্তের হোলি খেলা। এতদিন চুপ করে ছিলাম, কিন্তু এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আর বিরোধী দলীয় নেতাদের বলছি, আপনারা আলোচনা করে দেশে শান্তি আনুন। আগামী নির্বাচন গণতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন করে আপনারা দুজন দেশ গড়ার কাজে যৌথভাবে আত্মনিয়োগ করুন। যদি আপনারা তা না করতে পারেন, তবে দেশকে ভালবেসে উৎসর্গ করা আমার চোখের জল আমাকে ফেরত দিন। আমার চোখের জল এতো সস্তা না। Mayeen Chowdhur’র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়