প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অনুমোদনহীন প্রোগ্রাম’ পরিচালনার বিষয়টি ভিত্তিহীন: উপাচার্য

শরীফ শাওন: [২] বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিবিএ প্রোগ্রামের অনুমোদন নিয়ে অননুমোদিত আরও ১০টি প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আতিকুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

[৩] বৃহস্পতিবার (০৪ নভেম্বর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কক্ষে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

[৪] উপাচার্য জানান, ‘বিবিএ ’ একটি প্রোগ্রাম, যার আওতাধিন বাকি মেজর প্রোগ্রামগুলো পরিচালিত হচ্ছে। সার্টিফিকেটে ‘বিবিএ’ মুল প্রোগ্রামের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে ইউজিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হলে তারা মেজর বিষয়গুলোকে আলাদাভাবে অনুমোদন নিয়ে প্রোগ্রাম পরিচালনার পরামর্শ দেন। বর্তমানে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

[৫] ‘অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি’ অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ১৯৯২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নেও কোর্সটিতে ৫০ এর অধিক শিক্ষার্থী ছিল। ‘বিবিএ’ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় দিনে দিনে এর শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ছে। তবে সেসময় শিক্ষার্থী সংখ্যা নিয়ে ইউজিসির কোন নির্দেশনা ছিল না। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ইউজিসি ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশনা দেয়। যা অবাস্তব জানিয়ে বলেন, যেখানে ২০০ জন শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছে, এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যপক খরচ রয়েছে, সেখানে এত অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী দিয়ে কোন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হতে পারে না। ইউজিসি বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবে আশা জানিয়ে বলেন, আমরা দ্রুতই বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবো।

[৬] আতিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আমরা যথেষ্ট পরিমান শিক্ষার্থী পাচ্ছি না। দিনে দিনে এর সংখ্যা কমে গেলেও এ কোটায় আমরা আরও শিক্ষার্থী ভর্তির প্রত্যাশা করছি।

[৭] ‘বিশ্ববিদ্যালয় ব্যপক পরিমান টাকা সঞ্চয় করছে’ এ বিষয়ে তিনি বলেন, একটি পুর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে প্রায় ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। ঢাকার বাইরে থেকে অনেক নারি শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হলেও হলের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত হল ও খেলার মাঠসহ আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে ২৫০ বিঘা জায়গা কিনেছি।

[৮] উন্নয়ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী প্রতি ৫ হাজার টাকা নিচ্ছে এমন সংবাদ ভিত্তিহীন জানিয়ে বলেন, এমন ঘটনা হয়তো ১০ বছর আগে ঘটে থাকতে পারে। আমি যোগদানের পর থেকে বিগত ৫ বছরে এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই।

[৯] গবেষণায় বিএসএমএমইউ গবেষণায় খরচ করেছে ৭ কোটি, ঢাবি ৪৭২ কোটি, রাবি ৪ দশমিক ৪০ কোটি এবং বুয়েট ২ দশমিক ৩০ কোটি টাকা। যেখানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় খরচ করেছে ৬ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা। ‘বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গবেষণায় কম অর্থ খরচ হচ্ছে’ এর প্রতিক্রিয়ায় আতিকুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় অনেক অর্থ খরচ করেও পাবলিকেশন কেমন হয়েছে তা দেখতে হবে। কম খরচ হওয়া মানেই খারাপ নয়। অযথা আমরা অর্থ নষ্ট করব না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাবি, জবি, রাবি ও বুয়েট মিলে মোট ১ হাজার ১০০টি গবেষণা পত্র জমা দিয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্রাক, ইউল্যাবসহ টপ ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে গবেষণাপত্র জমা দিয়েছে ১ হাজার ৯৫টি। যেখানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ১৩৫টি গবেষণাপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

[১০] আতিকুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংকে স্থান করে নেওয়া যতটা কঠিন, ধরে রাখা তার চেয়ে বেশি কঠিন। বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে অনেকেই কিছুটা পিছিয়েছেন, কেউবা একই স্থানে রয়েছেন। তবে এ দিক থেকে এগিয়ে আছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছরের ইতিহাস রয়েছে, সেদিক থেকে বিবেচনা করলে এনএসইউর যাত্রা ২০ বছরের বেশি নয়। এরই মধ্যে বিশ্বের সেরা ৫০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ২০১৯ সালে ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং’য়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল ৩০১-৩৫০ তম স্থানে। ২০২০ সালে ২৯১-৩০০ তম স্থানে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালে ২২৮ এবং ২০২২ সালে তা ২১৫ তম স্থান অধিকার করেছে।

[১১] আগামী বছর র‌্যাংকিংয়ে ২০০ এর মধ্যে আসার আশ্বাস জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ২ বছরের মধ্যে আমাদের অবস্থান হবে সেরা ১০০ এর তালিকায়। এছাড়াও ৫ বছরের মধ্যে ‘হায়ার এডুকেশন টাইম’ এর তালিকাতেও ১০০ এর মধ্যে থাকার আশা জানিয়েছেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত